স্মরণে মার্চ ’৭১

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের এদিন ছিল লাগাতার হরতালের চতুর্থ দিন। ঢাকাসহ সারা দেশে পূর্ণ হরতাল, স্বাধীনতাকামী জনতার বিক্ষুব্ধ মিছিল, গণজমায়েত ও শপথের মধ্য দিয়ে বাংলার মুক্তি আন্দোলনে এ দিনটি অতিবাহিত হয়। বিভিন্ন স্থানে ক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানি পতাকা ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিন সকালে সেনাবাহিনীর গুলিতে টঙ্গী শিল্প এলাকায় ৪ জন শ্রমিক নিহত ও ২৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় ঢাকায় মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছাত্র-জনতা টঙ্গীর নিহত শ্রমিকদের লাশ নিয়ে ঢাকায় মিছিল বের করে। গুলিতে চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ওই সময় ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিতে আহত আরও ১৪ ব্যক্তি মারা যান। চট্টগ্রামে আন্দোলনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৮। গুলিতে খুলনায় দুজন ও রাজশাহীতে একজন নিহত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জানান, কেবল ঢাকা ও আশপাশেই সেনাবাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ২০০ আহত হয়েছেন। মসজিদে মসজিদে নামাজ শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ ও শোকসভার আয়োজন করা হয়। ছাত্রলীগ ও ডাকসুর উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম প্রাঙ্গণ থকে ছাত্রছাত্রীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল বের করেন। মুক্তিকামী বাঙালির উত্তাল ও অপ্রতিরোধ্য দুর্বার আন্দোলনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভিত নড়ে ওঠে। গ্রামে গ্রামে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে । ঐতিহাসিক মার্চের এই দিনে ঘটে আরও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণাকে অবাঞ্ছিত ও অগণতান্ত্রিক ঘোষণা করে বেলুচিস্তান ন্যাপ।

Lab Scan