স্মরণে মার্চ ‘৭১

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ৩ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকায় দ্বিতীয় দিনের মত এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম দিনের মত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। এর মধ্য দিয়েই পল্টনে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রামের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই সভা থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এদিন যশোরে পাক সেনাদের গুলিতে চারুবালা কর নিহত হন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চের উত্তাল দুপুরে যশোরের টেলিফোন ভবনের ওপর থেকে পাক সেনারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার মৃত্যুর পর যশোরে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হয়। সেদিন যশোর শহরে রটে যায় পাক আর্মি সেনানিবাস থেকে এসে শহরের ফুড গোডাউন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। শহরের সমস্ত মানুষ ওইদিন সকালে ঈদগাহে জমায়েত হতে থাকে। সেখান থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে রেল রোড ধরে এগিয়ে যায় ফুড গোডাউনের দিকে। সেখান থেকে পাক সেনারা গুলি ছোড়ে জনতাকে লক্ষ্য করে। জনতা ফিরে এসে ঘেরাও করে টেলিফোন ভবন। ওই ভবনের ছাদের ওপর সে সময় অবস্থান করছিল পাক সেনারা। তারা ওপর থেকে জনতাকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছোঁড়ে। টেলিফোন ভবনের পশ্চিমপাশে ছিল চারুবালা করের বাড়ি। ওই সময় তিনি ঘর থেকে চাল নিয়ে রান্না ঘরে প্রবেশ করছিলেন। এমন সময় পাকসেনাদের ছোড়া একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পাক সেনারা হাসপাতালে গিয়ে চারুবালা করের মরদেহ ঘিরে রাখে। এদিকে তার মৃত্যুর সংবাদে শহরের মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা একে একে ভিড় জমায় হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভয় পেয়ে পাক সেনারা তার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়

 

Lab Scan