স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও দুই মেয়রের ব্যর্থতায় ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে : খন্দকার মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্বৈরাচার সরকার, কোনো অস্বাভাবিক সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও পারবে না। এই সরকার এখন নার্ভাস। তিনি বলেন, এই যে বাংলাদেশে এখন যত সব ঘটনা ঘটছে, সব ঘটনা এই সরকারের ব্যর্থতার জন্য হচ্ছে। এই ব্যর্থতা কেন? যেহেতু এই সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না সে জন্য। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই তারাও তাদের কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায় না।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাসাস আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জাসাস এর সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মীর সানাউল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকীস জাহান শিরীন, জাসাসের সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক খলনায়ক শিবা শানু প্রমুখ বক্তব্য দেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, অসত্য অভিযোগে কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কেন কারাগারে? বর্তমানে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তার একনায়কতন্ত্র সম্ভব না। সে কারণে আজ খালেদা জিয়া কারাগারে। দেশবাসী জানে প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগেও লন্ডনে গিয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় লীগ নেতার সাথে টেলিফোনে বলেছিলেন তারেক রহমান যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার মা সারাজীবন কারাগারে থাকবে। এই কথা বলে তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন এখানে আইন-আদালত নয়, শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে রেখেছেন। কারণ সেই একটাই ওই যে একনায়কতন্ত্র সৃষ্টি করার জন্য। যাতে করে গণতন্ত্র রক্ষা না হয় সেই জন্য। অতঃএব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যদি মুক্ত করতে হয় তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এই সদস্য বলেন, সারাদেশের মানুষ এখন একটা আওয়াজ তুলেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনায় সমাবেশ করেছি, সেখানে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও হাজার হাজার জনগণ একটা আওয়াজ তুলেছে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। আমি গতকাল টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য গিয়েছিলাম সেখানেও জনগণ আওয়াজ তুলছে দেশনেত্রীর মুক্তি চাই। মানুষ আস্তে আস্তে রাস্তায় নামছে। একটা সময় বেগম জিয়ার আন্দোলন সারাদেশের মানুষের কাছে একাকার হয়ে যাবে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য কথায় কথায় সব ঘটনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বন্যা এবং ডেঙ্গুজ্বর। এ দুটো মোকাবিলায় সরকার তাদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ডেঙ্গুজ্বর এটা নতুন কিছু নয় আমিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলাম তখনও ডেঙ্গু হয়েছে কিন্তু আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল। এই সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এগুলোকে তারা গুজব বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। তাদের এই ব্যর্থতা এবং অবহেলার কারণেই ডেঙ্গু আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয় এই সরকার অস্বাভাবিক সরকার। সেই কারণে আজকের সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে অপেক্ষায় প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা। কুমিল্লার আদালতে প্রকাশ্যে আসামিকে খুন করা হয়েছে এইসব ঘটনা অতীতে বাংলাদেশ কখনো হয়নি।
খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, এই যে প্রিয়া সাহা এত বড় মিথ্যাচার করল। এর জন্য অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সরকারের উচিত। প্রথম দিকে সরকারের মন্ত্রীরা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমরা যদি বলি এর মধ্যে অবশ্যই কোনো রহস্য আছে। প্রধানমন্ত্রী ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা না।

ভাগ