স্ত্রী-পুত্রকে গলা কেটে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

মাগুরা সংবাদদাতা ॥ মাগুরায় স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে গলা কেটে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বিট্টু মজুমদার (২৬) নামে এক ব্যক্তি। মাগুরা শহরতলীর পারনান্দুয়ালী বৌ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে পুলিশ ঘাতক স্বামী বিট্টু মজুমদারকে আহত অবস্থায় এবং তার স্ত্রী পূর্ণ বিশ্বাস (২০) এবং শিশুপুত্র মানব মজুমদারের (১) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। বিট্টু মজুমদার পারনান্দুয়ালী বৌবাজার এলাকার কাঠমিস্ত্রি নির্মল মজুমদারের ছেলে।
মাগুরা পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ রেজোয়ান জানান, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পারনান্দুয়ালী এলাকায় হাজী রশিদ নামের একজনের বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয় এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভাড়াটিয়া বিট্টু মজুমদারকে আহত এবং তার স্ত্রী সন্তানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের কারণে রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী-সন্তানকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর বিট্টু মজুমদার নিজের গলায় প্যাঁচ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আহত বিট্টুকে পুলিশ হেফাজতে মাগুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, দু’বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মেয়েকে বিয়ে করেন বিট্টু। মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার পরিবার। পরে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় পার্শ্ববর্তী হাজি রশিদের বাড়িতে ৩/৪ মাস যাবত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়ায় ছিলেন। স্থানীয়রা মেয়েটিকে পূর্ণ বিশ্বাস নামে ডাকলেও তার প্রকৃত নাম কি ছিল তা কেউ জানে না। মেয়েটির পরিবারের সাথেও কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে তারা জানান। তবে পারিবারিক কহলের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে সবাই ধারণা করছেন।

ভাগ