সোহাগ হত্যা মামলার আসামিদের বাড়ি ও দোকান ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের মোলাপাড়ায় কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগ হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি কুরবান আলীকে (২০) পুলিশ নড়াইল থেকে আটক করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে পুলিশ অস্বীকার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন মোলাপাড়ায় তার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। এ সময় তার মা ও বোনকে ধরে পুলিশের কাছে দেয়া হয়। এর আগেরদিন বুধবার রাতে প্রধান আসামি রাকিবের পিতা মাইছো কুদ্দুসের মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একটি সূত্র জানায়, সোহাগ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই আমিরুজ্জামান গতকাল দুপুরের পর নড়াইলের লোহাগড়ায় অভিযান চালিয়ে ৩ নম্বর আসামি কুরবান আলীকে আটক করেছেন। কিন্তু কুরবানকে আটকের বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, আসামিদের আটকের জন্য বিভিন্ন এলাকায় তারা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর কুমার সরকারও জানান, কুরবানকে আটকের কথা সত্য নয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের স্বজনেরা ও এলাকার উত্তেজিত লোকজন মোলাপাড়া আমতলায় হত্যা মামলার আসামি কুরবানের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় জনতা তার মা রুমা ও বোন রেশমাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদের অভিযোগ, মা বোনকে চাপ সৃষ্টি করলে কুরবানের সন্ধান মিলতে পারে। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুজ্জামান বলেন, এলাকার লোকজনের হামলার মুখে কুরবানের মা ও বোনকে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য হেফাজতে রেখেছিলো। কিন্তু পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এলাকার একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি চক্র গত বুধবার রাত ১২ টার দিকে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ি সংলগ্ন রাকিবের পিতা মাইছো কুদ্দুসের মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মোলাপাড়ার কুখ্যাত এক সন্ত্রাসী ওই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। ইতোপূর্বে বোমা বানাতে গিয়ে জখম হওয়া এই সন্ত্রাসী এলাকায় বড় ধরনের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। সদর ফাঁড়ি থেকে সম্প্রতি বদলি হওয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার সোর্স হিসেবে পরিচিত এই সন্ত্রাসী খুনের সাথে জড়িত থাকলেও এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে মামলায় তাকে আসামি করা যায়নি। তবে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত যে কোন একজন আসামিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে কুখ্যাত ওই সন্ত্রাসী হত্যাকান্ডে যে জড়িত ছিলো সেই তথ্য উদঘাটন হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। উলেখ্য, গত ২০ অক্টোবর রাতে কলেজছাত্র ইয়াবাসেবী সোহাগকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরদিন ২১ অক্টোবর দুপুরে মোলাপাড়া মালোপাড়ায় ভৈরব নদের পাশের একটি ঘাসেেত তার লাশ পাওয়া যায়। সোহাগ মোলাপাড়া খালপাড় এলাকার পরিবহন চালক হাবিবুর রহমানের ছেলে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২২ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই মিলন হোসেন বাদী হয়ে এলাকার রাকিব, রায়হান, কুরবান ও শরীফকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ভাগ