সোস্যাল মিডিয়ার জন্য অগ্নিপরীক্ষা ভারতের নির্বাচন

ভারতের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নিরপেক্ষতা, নির্ভরতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের একটি অগ্নিপরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২০১৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের সময়, বিশেষ করে ফেসবুকের ভূমিকা মোটেও সুখকর ছিল না।
এদিক থেকে ভারতকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার এ দেশটি ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বাজার। ফেসবুকের মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীও এ দেশে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটারেরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবহারকারী ভারতীয়।
ফলে আগামী ১১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠেয় ভারতের জাতীয় নির্বাচন হবে এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এ নির্বাচন ঘিরে শঙ্কার আরো বড় একটি কারণ হতে পারে ভোটগ্রহণের সময়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহজুড়ে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। এত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত বা বিপথগামী করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়। এই সময় কিছু রুশ অ্যাকাউন্টধারী ফেসবুক ব্যবহার করে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করেন। ফেসবুকের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করা হয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে। এ বিতর্কের জেরে প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত বন্ধই হয়ে যায়।
সোস্যাল মিডিয়া একজন ব্যক্তিকে বিশেষ করে কোনো নির্বাচনের প্রার্থীকে যখন ব্যবহারকারীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে উপস্থাপন করে, যেমন—এই মুহূর্তে কার জনপ্রিয়তা বেশি ও কার কম অথবা কে স্মার্ট, কে নয়, এ ধরনের বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবিত করে। এদিক থেকে টেলিভিশনের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে সোস্যাল মিডিয়া।
আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গত বছর মেক্সিকো, ব্রাজিল এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে নাইজেরিয়ার নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অপব্যবহার রোধে নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তার পরও ব্রাজিলের নির্বাচনে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাপকভাবে ভুয়া খবর ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারতের ভোটার সংখ্যা উল্লিখিত তিনটি দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। সেদিক বিবেচনায় ভারতের আসন্ন নির্বাচনকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাগ