সেনাদের দুর্বলতায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে ঝুঁকছে রাশিয়া

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ওডেসা ও কিয়েভের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে রুশ সেনাবাহিনীর অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় গত কয়েক দিন ধরে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও অবকাঠামোতে আঘাত করতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে রাশিয়া। চলমান যুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে মস্কো। ইউক্রেনে আক্রমণের প্রথম সপ্তাহে কতটি রুশ হামলা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল তা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওয়ারশভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিটিকা ইনসাইটের বিশ্লেষক পিওতর লুকাসিয়েভিচ মনে করেন, ইউক্রেনের কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারগুলো এসব হামলায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, রুশ সেনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও যোগাযোগ কেন্দ্র অচল করে দিয়েছে।
সরঞ্জাম ও সরবরাহ নিয়ে রাশিয়ারা যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি ইউক্রেনীয়দেরও রুশ সেনাদের কর্তৃক অচল বা ধ্বংস করে দেওয়া স্টেশন ব্যবস্থার বিকল্প জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। পিওতর লুকাসিয়েভিচ বলেন, ধীরে ধীরে ইউক্রেনীয়রা তাদের রাডার বা সতর্ক ব্যবস্থা হারিয়ে ফেলছে। রুশ সেনাবাহিনী যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম সেটিও তারা দেখিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার মাইকোলাইভের একটি ব্যারাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এখানে ছিলেন ২০০ মেরিন। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। নিহত হয়েছেন কয়েক ডজন। এই হামলায় প্রাণহানির পর প্রশ্ন উঠছে, কেন একটি স্থানে এত সেনাদের সমাবেশ করা হয়েছিল।
লুকাসিয়েভিচ বলছেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকা পোল্যান্ডের মতো ইউক্রেনের বেশিরভাগ সেনা ও কমান্ড কেন্দ্র সেই আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে। যা রাশিয়াকে একটি সুবিধা দিচ্ছে। রুশরা আর্কাইভ থেকেই ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যারাক, সদর দফতর ও সামরিক ইউনিটের অবস্থানের তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। তার মতে, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে হামলা সুস্পষ্ট কৌশল: সামনে থাকা সেনাদের সঙ্গে লড়াই করা এবং তাদের সরবরাহ লাইন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।
সম্প্রতি কৃষ্ণ সাগর থেকে রুশ সেনারা ইউক্রেনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ মাইল দূরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এটি ছিল একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। পৃথক হামলা হয়েছে লভিভ বিমানবন্দরে। এখানে মিগ যুদ্ধবিমান মেরামত করা হতো। সম্প্রতি পেন্টাগন মুখপাত্র জন কিরবি সতর্ক করে বলেছিলেন, পদাতিক বাহিনীর অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়ার কারণে রাশিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পারে। শনিবার রাশিয়া দাবি করেছে, পশ্চিম ইউক্রেনের একটি গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষার গোলাবারুদের একটি গুদামে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদি এই দাবি সত্য হয় তাহলে কোনও যুদ্ধে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুতগতির অস্ত্রের এটি প্রথম ব্যবহার।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

Lab Scan