সুপ্রিম কোর্টে ‘আ. লীগের তাণ্ডব’ ক্ষমা পেলো কী করে, প্রশ্ন ফখরুলের

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বিচারপতির এজলাস ভেঙেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ওই দিন তারা আদালতে লাঠি মিছিল করেছিলেন। আইন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। পত্র-পত্রিকায় যাদের ছবি এসেছিল, পরবর্তী সময়ে তারা বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন, এখনও বিচারপতি আছেন।’
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের যৌথ সভাশেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। গত ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে বিএনপির আইনজীবীদের বিক্ষোভ সম্পর্কে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অভিযোগের জবাব দেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল শুনানির পর দখলদারী মন্ত্রীসভা সদস্যরা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যেন শুনানিতে আমাদের আইনজীবীরা মুক্তির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। মনে হচ্ছে আইনজীবীরা যেন মহাঅপরাধ করে ফেলেছেন।’ ফখরুল প্রশ্ন করেন, ‘তারা কী নিজেরা নিজেদের চেহারা দেখেছেন। একবারও মনে করেছেন, তারা কী করেছিলেন।’ তার দাবি, বিএনপির আইনজীবীরা নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে ন্যায় বিচারের কথা বলেছেন। সুপ্রিম কোর্টে অতীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিন দিন বিচারপতিরা কোর্টে আসেননি। এজলাস লণ্ডভণ্ড। আপনাদের ওই সব তাণ্ডব ক্ষমা পেলো কী করে। অতীতের কথা সুপ্রিম কোর্টকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার।’ ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যে নাটক করছেন, তা বন্ধ করুন। তার জীবন রক্ষা করার জন্য জামিনে মুক্ত করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ কখনও ক্ষমা করবে না। তখন আপনারাই ক্ষমার অযোগ্য হবেন। সেই সময় আসার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যারা বিএনপি করেন, তাদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধে জড়িত ছিলেন। আমাদের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও জেলার নেতারা একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘একটি মহল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিত করছে। অত্যন্ত কদর্যভাবে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে চাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের এমন একটা মনোভাব কাজ করে যে, মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ঠিকাদারিটা তাদের। যে স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে কথা বলেন, সেটাকেই বিকৃত করার চেষ্টা করেন তারা।’ তার অভিযোগ, স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতন্ত্র; সেই গণতন্ত্রকে তারা নিজেরা বারবার ধ্বংস করেছে। এ কথা তারা আলোচনায় একবারের জন্যও আনেন না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই দলটির হাত ধরে গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়েছে। দলটির যারা মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের হাতেই গণতন্ত্র বারবার নিহত হয়েছে, ভেঙে খান খান হয়েছে। আমরা ১৯৭৫ সালের বাকশাল ভুলে যাইনি। সে সময় সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাকশাল করা হয়েছিল। পত্রপত্রিকা বন্ধ করা হয়েছিল, জনগণের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। একই কায়দায় তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতার জোরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়ার অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নেত্রী ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন দুটি শিশু সন্তান নিয়ে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন। এখনও তিনি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সংগ্রাম করে চলেছেন।’ ‘২০০৮ সালের পর থেকে সংসদে সুযোগ নিয়ে বিভিন্নভাবে শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনী করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।’- বলেন ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সেই দল, যারা স্বাধীনতার স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের কারণেই গণতন্ত্রের জন্য যিনি সংগ্রাম করেছেন, তিনি আজ কারাগারে। লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা।’ ফখরুল বলেন, ‘বিজয়ের এই মাসে আমাদের অফিসের সামনে আবারও পুরনো অবস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে ভয় দেখানোর যত প্রক্রিয়া থাকে, সবকিছু শুরু করেছে।’ দেয়ালের লিখন পড়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘একটু দেয়ালের লেখাগুলো পড়ুন। মানুষের কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করুন, তাদের চোখের দিকে তাকান। প্রতিটি মানুষ কনসার্ন—এই সরকার কবে যাবে। এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ, চাল, লবণের দাম বাড়ছে। কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবুও তুবড়ি ফুটিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন, দেশ অত্যন্ত ভালো চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ অনেকে।

ভাগ