সুন্দরবন: আম্পানে বন্যপ্রাণীর জলাশয়ে ঢুকে পড়েছে নোনা পানি

খুলনা ব্যুরো॥ ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় নিজের বুক পেতে দিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে দেশের ত্রাণ কর্তা হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করল সুন্দরবন। আম্পানের আঘাতে সব মিলিয়ে কি পরিমাণ য়তি হয়েছে তা তাৎণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বনের বেশ কিছু কেওড়া গাছ ভেঙে গেছে। সুন্দরবনের ভেতরে থাকা স্বাদু পানির জলাধারগুলো লবণাক্ত পানিতে ভরে গেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বন সংরক আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি প্রচণ্ড আঘাত হানবে ধারণা করে আমরা আমাদের প্রত্যন্ত বন অফিসগুলোর সকল কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। ওই বন অফিসগুলোতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী কাজ করেন। আমরা তাদের অন্যান্য অফিসে নিয়ে এসেছি যেগুলোর ভালো অবকাঠামো রয়েছে। তিনি জানান, তারা উপকূলে অবস্থিত নয়টি অফিসের সকল কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। অফিসের মধ্যে রয়েছে- কোটকা, কোচিখালী, শেলারচর, পাশাকখালী, বাহেরাখালী, পুস্পাকাঠি, নোটাবেকি, কাঁচিকাটা, কাওয়াখালী। যেসকল মধু সংগ্রহকারীরা ফিরে আসতে পারেননি তাদের নিকটস্থ বন অফিসে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে ৬৫টি পুকুর আছে। এসব পুকুরের পানি আমাদের বন প্রহরী এবং বাঘ-হরিণসহ সকল বন্য প্রাণীরা পান করে থাকে। এই সব পুকুর লোনা পানিতে ভরে গেছে। এতে করে বন প্রহরী এবং বন্য প্রাণীরা পানযোগ্য পানির অভাবে পড়বে। বন্য প্রাণীরা দীর্ঘদিন এসব লোনা পানি পান করলে তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। এজন্য দ্রুত পুকুর খনন করে স্বাদু পানির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে বনের কিছু কেওড়া গাছ ভেঙে গেছে। বনের ভেতরে আর কি পরিমাণ গাছের তি হয়েছে বা বন্য প্রাণীর কি পরিমাণ তি হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ, নিরাপত্তার জন্য বনের দণিাঞ্চল থেকে আমাদের সকল কর্মীদের নিয়ে আসা হয়েছে। শিগগির ঘূর্ণিঝড়ের ফলে কতটা য়তি হয়েছে তার নিরূপণ করা শুরু করবে বন বিভাগ। বাংলাদেশ ও ভারতে যৌথভাবে এই অনন্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আছে। বাংলাদেশে রয়েছে এর ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিমি।

ভাগ