সিপিডি’র সংলাপে বক্তারা: বাণিজ্যে দরকষাকষি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ একটি টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিশ্চিত করতে কৌশলগত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি অনুসরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে বাংলাদেশকে। আসন্ন ১২তম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (ডব্লিউটিও-এমসি১২) বাংলাদেশের ভূমিকা, সুযোগ এবং সম্ভাবনা নিয়ে একটি ভার্চ্যুয়াল সংলাপে বক্তারা এই সুপারিশ করেন। বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘আসন্ন এমসি ১২: বাংলাদেশের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য অবস্থান’ শীর্ষক ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন সিপিডি চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান। বক্তারা জানান, সুনির্দিষ্ট খাতে কর্মীদের দক্ষতা বাড়িয়ে, সে অনুযায়ী বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে হবে সরকারকে। শুধু পণ্যের প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। এটি করা না গেলে, এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। এছাড়া সংস্কার, প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ হোমওয়ার্ককে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর আরও ৬ থেকে ৯ বছর যাতে বাণিজ্যসুবিধা পাওয়া যায়, তা নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে আমরা সোচ্চার থাকব। শুধু বাংলাদেশ নয়, যে দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে, সবার জন্যই কথা বলব আমরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডব্লিউটিও’র দোহা ও বালি বৈঠকে কিছু ভালো সিদ্ধান্ত হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এখন দরকার হচ্ছে, যারা নতুন উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে, তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা, সেই চেষ্টা করা। দেশগুলোর জন্য ঋণ মওকুফের সুবিধাও আসতে পারে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশের যখন এলডিসি থেকে উত্তোরণ হচ্ছে, তখন ডব্লিউটিও-এর মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বাদশ সম্মেলনে (এমসি-১২) বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণ হতে ট্রানজিশন পিরিয়ড ১২ বছরের জন্য বাড়ানো। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পরও আরও ১২ বছর উন্নত দেশগুলো থেকে যেন বাণিজ্য সুবিধা পেতে পারে, সে ব্যাপারে এলডিসি গ্রুপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে আবেদন করেছে। এই প্রস্তাবনার উপর ঐক্যমত শুধুমাত্র যে আমাদেরকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়তা করবে, তা নয় বরং এটি আমাদের আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা সৃষ্টির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারুক হাসান বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের মতো এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণ হওয়া দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আমাদেরকে বিভিন্ন সহায়তা প্রোগ্রাম যেমন; ইউএনসিডিএফ, এলডিসিএফ, ইউএন টেকনোলজি ব্যাংক ফর এলডিসি প্রভৃতি প্রোগ্রামের সহায়তা কাজে লাগাতে হবে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে আঞ্চলিক ও দ্বি-পক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যদিও আমরা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করছি। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দ্বি-পক্ষীয় এফটিএ-এর পথে বাংলাদেশ না এগুতে পারলে প্রতিযোগীদের সঙ্গে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য ও উদীয়মান বাজার আবিষ্কার করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্লকের উপর ফোকাস করতে হবে। বাণিজ্য আলোচনা ও দরকষাকষির জন্য সামর্থ্য তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাণিজ্য দরকষাকষি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রগুলোতে আমাদেরকে আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা তৈরির জন্য কাজ করতে হবে। সংলাপে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: প্রযুক্তির আপগ্রেডিং এবং দক্ষতা গঠনের জন্য প্রণোদনা প্রদান। বাণিজ্য সুবিধাসহ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পরিবহন সংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার। টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যেতে কৌশলগত বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়া আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট (বাংলাদেশ) ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। সৈয়দ মনজুর এলাহী, কোষাধ্যক্ষ, সিপিডি বোর্ড অফ ট্রাস্টি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সংলাপ পরিচালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

Lab Scan