সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগ, ‘নৌকায় ভোট না দিলে গলাধাক্কা’

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ ভোটকেন্দ্রের টেবিলে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট না দিলে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হবে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এমন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শেখ এবাদুল ইসলাম। আগামী ২৫ জুলাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা। তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে তার লাগানো পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তার সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু ও তার লোকজন গুম অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাদেরকে খুন-জখম করারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। সোমবার সাতক্ষীরা প্রেস কাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ এবাদুল ইসলাম। এ সময় তার সাথে ছিলেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী শেখ আব্দুর রশীদ ও ওয়াদুদ খান। ভোটের আগের রাতে সিল মারার ব্যবস্থা করেছি’ এমন হুমকির উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নৌকার প্রার্থী আরও বলেছেন নৌকায় ভোট না দিলে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে দেয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে শেখ এবাদুল ইসলাম আরও বলেন, মোজাহার হোসেন কান্টু হাট-বাজারে দোকানে গিয়ে বলছেন, আমি গর্ভবতী, প্রথমে চেষ্টা করবো স্বাভাবিক ডেলিভারির, না হলে সিজার করার ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি। এতে বুঝায় তিনি ভোট ডাকাতির আশ্রয় নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী একজন প্রভাবশালী। তার পুত্র সাকিবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কাকশিয়ালি ব্রিজে এসে প্রচার মাইক ও ব্যটারিচালিত ভ্যান ভাঙচুর করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। চালককে মারপিট করে পোস্টার ব্যানার লিফলেট কেড়ে নিয়েছে। এবাদুল ইসলাম বলেন, তিনি সকল বিষয়ে নির্বাচন অফিসার এবং কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন। তিনি নিজেও অপহৃত হতে পারেন এমন আশংকা করে বলেন, আজ এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হবে। কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মেহেদি হাসান সুমন পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এখানে ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুশুলিয়া ইউপি উপনির্বাচনে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাহার হোসেন কান্টু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে করা হয়েছে তা সত্য নয়। এর কোনো প্রমান নেই। সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার জন্য শেখ এবাদুল ইসলাম এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

ভাগ