সাগর উত্তাল, ইলিশ ধরতে পারছেন না জেলেরা

নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এতে টিকতে না পেরে গত দু’দিন ধরে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে জেলেদের। শত শত ফিশিং ট্রলার সাগর ছেড়ে সুন্দরবনের ছোট-ছোট খালসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) বিকাল থেকে সাগর উত্তাল রয়েছে। মোংলার প্রধান মৎস্য বন্দর মোংলা বাজারের মৎস্যজীবী নেতা ও ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরা শুরু হতে না হতেই বৈরী আবহাওয়ায় উপকূল জুড়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। জেলে-মহাজনদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ইলিশ আহরণ করেছে। ওই সময় আবহাওয়াও স্বাভাবিক থাকে। তখন সাগরে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করা যায়। ভারতের সঙ্গে মিল রেখে মার্চ-এপ্রিলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান জেলে ও মহাজনরা।
বঙ্গোপসাগরে দুবলার ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৩ জুলাই ফিশিং ট্রলারগুলো আবার ইলিশ ধরতে সাগরে যায়। প্রথম দিন থেকেই সাগরে জাল ফেলতেই প্রচুর পরিমানে ইলিশ ধরা পড়ে। ট্রলারগুলো ইলিশবোঝাই করে ঘাটে ফেরে । পাঁচ থেকে ১০ হাজার পিছ পর্যন্ত ইলিশ উঠেছে কোনও কোনও ট্রলারে।’ বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘২৪ জুলাই থেকে একেকজন ফিশিং ট্রলার মালিক ও মহাজন ইলিশ বিক্রি করে পাঁচ থেকে ১২ লাখ টাকার আয় করেছেন। দ্বিতীয়বার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই নিম্নচাপ শুরু হয। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কিছু ট্রলার সাগরে গিয়ে দুর্যোগের মুখে পড়ে। উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে জাল ফেলার আগেই সেসব ট্রলার আবার কূলে ফিরে এসেছে। বর্তমানে সুন্দরবন, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা-রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘাট, তাফালবাড়ী, রাজেশ্বর, কোন্তাকাটা, মঠবাড়িয়ার তুষখালী, মাছুয়া খালসহ বিভিন্ন এলাকার খালে কয়েক হাজার ট্রলার নিরাপদে অবস্থান করছে।’ মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড এম তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণেই সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। মৎস্যজীবীরা ভারতের সঙ্গে মিল রেখে মার্চ-এপ্রিলের দিকে এই নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

ভাগ