সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার পেতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই:বিএফইউজে নেতৃবৃন্দ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশব্যাপী সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দাবিতে যশোরে আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে বিএফইউজের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গত ১৪ বছরে এদেশে ৫৪ জন সাংবাদিক খুন হলেও একটি হত্যাকান্ডেরও বিচার হয়নি। যে কারণে এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বেড়েই চলেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যে সরকার খ্যাতিমান সাংবাদিক সাগর- রুনি হত্যার তদন্ত ১১ বছরেও সম্পন্ন করতে পারেনি তাদের ক্ষমতার থাকার কোন অধিকার নেই। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার পেতে হলে প্রয়োজন জনগইের সরকার। তাই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরদার করতে সাংবাদিকসহ দেশের সবশ্রেণির মানুষকে জেগে উঠতে হবে।
রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সাংবাদিক সাগর-রুনি, আরএম সাইফুল আলম ও শামছুর রহমানসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি এম আইউবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বিএফইউজের সাবেক সহকারী মহাসচিব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম, বিএফইউজের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন ও এইচ এম আলাউদ্দিন।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল কবীর নান্টু, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান কবীর, সাইফুর রহমান সাইফ ও সাইফুল ইসলাম সজল।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, সরকারের সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জড়াতে হয়। এই সরকারের ১৪ বছরে ৫৪ জন সাংবাদিক হত্যা হলেও একটিরও বিচার কাজ সম্পন্ন হয়নি। বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের এগারো বছর পার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি। যশোরের সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুল, শামছুর রহমান কেবল হত্যা মামলাটিও বিচারের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এসব হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ায় বার বার সাংবাদিক হত্যা নির্যাতন হচ্ছে। ২০২২ সালে খুন হয়েছে ৫ জন। বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৭০জন। সর্বশেষ নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক রুবেল। বর্তমান এ পরিবারটি চরম খারাপ অবস্থার মধ্যে জীবনযাপন করছে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, এ অবৈধ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে না। দেশের সাংবাদিকদের বৃহৎ একটি অংশকে বেকার করে রেখে সরকার তার মদদপুষ্ট সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা দিয়ে লালন-পালন করছে। জনগণের ট্যাক্সের এসব টাকা শুধু একশ্রেণির সাংবাদিকরা ভোগ করলেও অন্যদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধান বক্তার বক্তৃতায় বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন বলেন, অনির্বাচিত সরকারের অধিনে কোন সমস্যার সমাধান হবেনা এটা ভেবেই আমাদেরকে সামনের দিকে এগুতে হবে। এ সরকার জনগণের হৃদয়ের ভাষা বোঝেনা। হত্যা নির্যাতনের বিচার পেতে হলে প্রয়োজন জনগণের সরকার। তাই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সকল শ্রেণি- পেশার মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। এছাড়া মুক্তির কোন বিকল্প কিছু নেই। তিনি বলেন, জুলুম করে সরকার টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটি আর হয়তো সম্ভব হবেনা। খুব দ্রুতই দেশের জনগণের তীব্র গণআন্দোলনের মুখে এ ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন হবে। সেই আন্দোলনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সাংবাদিকসমাজ বসে থাকবে না বলে বিএফইউজের মহাসচিব হুশিয়ারি জানান সরকারকে।
সাংবাদিক সমাবেশের আগে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নতুন দুই সদস্য শামীম রেজা ও শামসুজ্জামান স্বজনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিএফইউজের সভাপতি, মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

Lab Scan