সব পথ এসে মিশেছে শহীদ মিনারে

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ফুল হাতে, খালি পায়ে হেঁটে আসা নগরীর হাজারো মানুষের গন্তব্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা ছুটে এসেছেন ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। এ যেন নগরীর সব পথ এসে মিশেছে শহীদ মিনারে। দিনের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন তারা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ঘোষণা মঞ্চ থেকে মাইকে বাজানো হচ্ছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। আর এই গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে ধীর পায়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও পেশার সাধারণ মানুষ।
নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ অসংখ্য সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। অপেক্ষায় আছেন আরও হাজারো মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বাংলা ভাষার সঙ্গে বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলা ভাষার মধ্যে বহু ভাষার শব্দ রয়েছে। এসব ভাষার শব্দ ব্যবহার করে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে। কাজেই কিছু কিছু ভাষা থেকে আসা শব্দ দোষের কিছু নয়। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সাহিত্য রয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষার নিজস্ব চরিত্র রয়েছে। কিছু ভাষার শব্দ অনুপ্রবেশ ঘটলেই বাংলা ভাষা তার নিজস্ব চরিত্র হারাবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য প্রমিত ও পরিশীলিত ভাষার উন্নয়ন খুব জরুরি। বাংলা যেন শুধু সাহিত্যের ভাষা না হয়, এই ভাষা হবে বিজ্ঞানের ভাষা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষা, প্রকৌশল বিজ্ঞানের ভাষা। তাহলেই বাংলা আরও সমৃদ্ধ হবে।’ তিনি বলেন, ‘বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের একটি মৌলিক দর্শন ছিল। তা হলো যেকোনও জাতিসত্তার মানুষের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং সেটা সংরক্ষণ করা এবং সব জাতিসত্তার মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। এটিই হলো বিশ্ব সভ্যতার জন্য বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের অবদান। যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’ তিনি বলেন,‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হয়। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত করে।’

ভাগ