সবার আগে বর্তমান দাম কমান

0

সকল প্রকার ভোগ্যপণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্যের দামে ক্রেতাদের নাভিঃশ্বাস হওয়ার উপক্রম। আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হবে মাহে রমজান। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকার ভোগ্যপণ্যের দাম সাশ্রয়ী ও সরবরাহ বাড়াতে টিসিবির পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি থামাতে সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবিকে পণ্য সরবরাহে নামানোর তাগিদ এসেছে খোদ কর্তৃপক্ষ থেকে। ঘোষণা মতো প্রতিবার অতীতের বিভাগীয় শহরগুলোতে যেভাবে টিসিবির পণ্য সীমিত আকারে চালু করা হতো সেটা এখন সম্প্রসারিত পর্যায়ে সারাদেশে বিতরণ করা হবে। অর্থাৎ ইউনিয়ন পর্যায়ে এমন পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে যারা নিত্য এসব কিনতে হিমশিম খায়। বলা হয়েছে, রমজানের আগে ও মাঝামাঝি সময়ে দুই দফায় তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ ও খেজুরের মতো আবশ্যিক পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। আবার দেশের স্বল্প আয়ের কোটি পরিবারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ থেকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহ একযোগে কাজ করে যাবে যাতে রমজানের সময় পণ্যমূল্য মাথাচাড়া দিতে না পারে। বাজারদর যেন লাগামছাড়া না হয় সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দেশের নিত্য ভোগ্যপণ্য মূল্যের যে ওঠানামা সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি নতুন কিছু নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজকে নিয়ে যে কারসাজি শুরু হয় কুচক্রী মহলে সেটাও এক অনাকাক্সিক্ষত সঙ্কট বলাই যায়। সব সময় মুনাফালোভীরা ওঁৎ পেতে থাকে নিত্যপণ্যের বাজারকে অসহনীয় করে তুলতে। যার মাধ্যমে তাদের অসদুপায়ে মুনাফা অর্জনেরও একটি বিষয় প্রচ্ছন্ন থাকে। সুতরাং এসব অসাধু ব্যবসায়ীর ওপর কঠোর নজরদারি জরুরি। এক্ষেত্রে প্রশাসন বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে। অভিযোগ আছে, সরকারে ভেতরেই ব্যবসায়ীদের অবস্থান শক্তিশালী থাকায় প্রশাসন সফল হচ্ছে না। এই একই কারণে সরকারের মূল্যরোধের ঘোষণায় আস্থা রাখতে পারছে না। ভোক্তারা বলছেন, মূল্য বাড়িয়ে যেখানে তোলা হয়েছে সেখান থেকে কমানোর করোনা ঘোষনা কেউ দিচ্ছে না। ফলে মানুষের কষ্ট লাঘবের কোনো আশা নেই। তারা বলছে, সবার আগে বর্তমান কমিয়ে ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা আনতে হবে। আমরাও এমন দাবি সমর্থন করি।

Lab Scan