সন্তানের জন্ম সনদ জালিয়াতি, বাবা-মার অর্থদণ্ড

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ কন্যা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির মামলায় সাবেক স্ত্রী অনামিকা ওমর এবং তার দ্বিতীয় স্বামী আরশাদ হোসেনকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই মাস বিনাশ্রমের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত সোমবার (২০ ডিসেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা অর্থদণ্ডের ১০ হাজার টাকা আদালতে জমা দেন। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউর আজাদ রহমান এসব তথ্য জানান। অনামিকা ওমর চকবাজারের ওমর ফারুকের মেয়ে। আরশাদ হোসেন একই থানার গোলাম আহম্মদের ছেলে। কন্যা সন্তানের জন্ম নিববন্ধন সনদ জালিয়াতির অভিযোগে মাকসুদুর রহমান ২০১৭ সালে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি চকবাজার থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত বছর চকবাজার মডেল থানার সাবইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন দুজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এদিকে, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ জানুয়ারি এ মামলার বাদী মাকসুদুর রহমানের সাথে অনামিকা ওমর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। মাকসুদুর রহমানের সাথে বৈধ বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় অনামিকা ওমর আরশাদ হোসেনের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অনামিকা ওমর মাকসুদুর রহমানকে তালাক দিয়ে আরশাদ হোসেনকে বিয়ে করেন। তখন ওই কন্যার নাম, জন্ম তারিখ ও পিতার নাম পরিবর্তন করে তারা (অনামিকা ও আরশাদ) নতুন জন্ম নিবন্ধন করেন। মাকসুদুর রহমান তার সন্তানকে রীতিমত ভরন পোষনের টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও আসামিরা মাকসুদকে তার মেয়েকে দেখতে দিতো না। তিনি বাধ্য হয়ে কুমিল্লা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে তার কন্যাকে মাসে একবার দেখা করার আদেশ আসে। এরপরও আসামিরা তাকে তার মেয়েকে দেখতে দিতো না। ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বন মাকসুদুর রহমান আদালতের আদেশ নিয়ে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে সেন্টার পয়েন্ট স্কুলে তার কন্যার লেখাপড়ার খবর ও সাথে দেখা করতে যান। কিন্তু তিনি যে নামে মেয়ের সাথে দেখা করতে যান ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে নেই বলে তাকে জানানো হয়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে অনামিকা ও আরশাদ স্কুলের গেটে মাকসুদুর রহমানকে ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। আরশাদ মাকসুদুর রহমানকে কিল ঘুষিও মারেন।

Lab Scan