সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পিতার বিরুদ্ধে

0

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা॥ দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঘরে আগুন দিয়ে আট বছরের শিশু সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ইয়াছিন আলীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের ধলবাড়িয়া মাঠপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের মা রোকেয়া খাতুন জানান, তার স্বামী মাদকাসক্ত ও অস্ত্র মামলার আসামি। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ লেগেই থাকতো। মঙ্গলবার স্বামী তাকে মারধর করলে আরিফকে নিয়ে তিনি তার নানা ধুলিহর গ্রামের ইজ্জত আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নানার বাড়ি থেকে আরিফকে নিয়ে চলে আসে ইয়াছিন। পরে আর মোবাইলে যোগাযোগ হয়নি। ভোরে মোবাইল ফোনে খবর পান তাদের বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিক স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে এসে তিনি জানতে পারেন যে তার ছেলেকে ঘরের মধ্যে হত্যা করে দরজা লাগিয়ে বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তার স্বামী।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগানোর পর ওই বাচ্চার কোনও কান্না বা চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যার পর লাশ ঘরের মধ্যে রেখে দরজায় শেকল তুলে দিয়ে বাইরে থেকে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তার স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আরিফ বিল্লাহের দাদি মলুদা খাতুন জানান, ইয়াছিন তার ছেলেকে হত্যা করে ঘরে আগুন লাগিয়ে তার মামার বাড়ি আগরদাড়িতে যায়। সেখানে সে তার ছোট ভাই মামুনের পোষা ময়না পাখিটির ডানা ছিঁড়ে মেরে ফেলে। ভাই মামুনকে লাঠি দিয়ে পেটায় ইয়াছিন। একপর্যায়ে তার মামা তুহিন ও খালা শেফালী ছুটে এলে তাদেরও মারধর করে ইয়াছিন। পরে তুহিনের ছেলে আকাশ এসে ইয়াছিনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে পড়ে যায়। পরে ইয়াছিনকে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, ঘাতক ইয়াছিন আলীকে আটক করা হয়েছে। ছেলেটির দেহ পুড়ে কঙ্কাল হওয়ায় তাকে চেনা যাচ্ছে না।

 

Lab Scan