শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে স্থবির মোংলা নওয়াপাড়া ও খুলনা নৌবন্দর

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ধর্মঘটে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে মোংলা, নওয়াপাড়া ও খুলনার নৌবন্দরে। ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আহ্বান করেছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। দাবিগুলো হলো নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, কন্টিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান, বাল্কহেডের রাত্রিকালীন চলাচলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, পরিবহণ নীতিমালা শতভাগ কার্যকরকরণ, চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল ও চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের চলমান কার্যক্রম বন্ধ ইত্যাদি। নৌ চলাচল বন্ধে কয়লার মৌসুমে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নৌ চলাচল বন্ধে খুলনা ও বাগেরহাটে নৌপথের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্টাফ রিপোর্টার(অভয়নগর) জানান, কর্মবিরতিতে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের ঘাটগুলোতে লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম। চলমান কয়লার মৌসুমে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। এদিকে নদী বন্দরে কর্মবিরতির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নওয়াপাড়া নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শনিবার সন্ধ্যায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। নওয়াপাড়া পৌর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, নৌ-যান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দর এলাকায় লোড-আনলোডের কাজ বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিককে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। সেই সাথে তাদের প্রতিদিনকার উপার্জনও বন্ধ হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়বে শ্রমিক পরিবার গুলোর উপর।
নওয়াপাড়া সার-সিমেন্ট, খাদ্য শষ্য ও কয়লা ব্যবসায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ জালাল হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই নাজুক অবস্থায় পড়েছেন। তার উপর এই ভরা মৌসুমে নৌ-যান শ্রমিক কর্মবিরতির ফলে নওয়াপাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন ব্যবসায়ীরা। তিনি কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের আহবান জানান।

খুলনা ব্যুরো জানায়, রবিবার সকালে খুলনা বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা।
কর্মবিরতির ফলে খুলনা থেকে দক্ষিণ দিকের দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা, সাতক্ষীরার সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী লঞ্চও। খুলনা নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মো. ফারুখ হোসেন বলেন, বর্তমানে একজন শ্রমিক সর্বনিম্ন ৭ হাজার ৭৫০ টাকা মজুরি পাচ্ছে। প্রতিদিন ২৩৩ টাকা তাদের মজুরি। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে শ্রমিকরা সংসার চালাতে পারছে না। তারা বারবার মালিকদের কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও কর্ণপাত করছে না। বেতন বৃদ্ধি করছে না। বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৭-৮ বছর আগের বেতন কাঠামো এখনও চলছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজার সম্পর্কে জানা আছে। শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সংগ্রাম-কর্মবিরতি করা ছাড়া তাদের আর কোন গতি নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।

বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় চলছে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি। শনিবার প্রথম প্রহরে ১০ দফা দাবিতে সারাদেশের মত এই জেলায়ও নৌযান শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। এ কারণে মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজে আসা আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য নদী পথে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্য পরিবহণকারী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে মোংলা বন্দরের আমদানি ও রফতানিকারকরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হবে স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ মোংলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মামুন হাওলাদার বলেন, দেশের সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু শুধু নৌযান শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা বাড়েনি। নৌযানের পণ্য পরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধি করেছে কিন্তু নৌযান শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। বারবার মালিক পক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেও আমাদের কোন লাভ হয়নি। গত ১৯ নভেম্বর সরকার ও মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে আমরা এই কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। ১০ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

Lab Scan