শ্যামনগরে দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামানকে বদলি, তদন্ত টিম গঠন

0

শেখ আব্দুল হাকিম,শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) ॥ শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো মেরামত খাতে দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনকে ভোলার লালমোহন উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। বদলির খবরে ক্ষতিগ্রস্তরা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করলে আক্তারুজ্জামান মিলন দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই রাতের আধারে পালিয়ে যান। দুনর্িিতর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে শিক্ষা অধিদপ্তর হতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়। এই টিম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট দুই দিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদন্ত করবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ ও ২০ অর্থ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো মেরামতে শিক্ষা অধিদপ্তর হতে শ্যামনগরে ১৯১টি স্কুলে ১২টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এসব প্রকল্পের বরাদ্দের চেক ছাড় পেতে শিক্ষকদের ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫০ টাকা শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনসহ সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহআলম,আজহারুল ইসলাম,সোহাগ হোসেন ও সোহাগ আলমকে ঘুষ দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯ অর্থ বছরে স্লিপ খাতে বরাদ্দ হতে ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন ক্রয় থেকে শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন হাতিয়ে নেন ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ টাকা। অথচ জেডকেটিকো মডেল নং কে ৫০ এ নামীয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটির বাজার মূল্য ছিল ৬ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ শিক্ষা অফিসার মেশিনটির ওয়ারেন্টির অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি মেশিন বাবদ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা কর্তন করে বাকি টাকার চেক শিক্ষকদের প্রদান করেন। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. উত্তম কুমার দাস। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) নজরুল ইসলাম,
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট অফিসার (অর্থ রাজস্ব) আ.ফ.ম জাহিদ ইকবাল। অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন এ প্রতিবেদককে জানান, তদন্তের দিন তিনি শ্যামনগরে না এসে সাতক্ষীরা শহরে অবস্থান করবেন।

Lab Scan