শৈলকুপায় বাজারে দাম বেশি তাই গুদামে জমা পড়েনি ধান

0

মফিজুল ইসলাম,শৈলকুপা(ঝিনাইদহ)॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি উপজেলা খাদ্যগুদাম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ধান চাল সংগ্রহ প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কৃষকদের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। একদিকে সরকার নির্ধারিত ধানের দাম, কম অন্যদিকে নানা বিধিনিষেধ থাকায় চাষিরা ধান দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কৃষকদের অভিযোগ,গুদামে ধান দিতে গেলে নানাবিধ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় এ সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে জানা যায়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলায় চলতি বছরে সরকার নির্ধারিত ২৮ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৬৯৩ টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে আমন সংগ্রহ ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও এ কার্যক্রমের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার কৃষকেরা সরকার-নির্ধারিত মূল্যে ধান দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। একাধিক কৃষক বলছেন, সরকারি মূল্য ১১শ ২০ টাকা করে প্রতি মণ ধান কিনছে খাদ্য গুদাম। অথচ বাড়ি থেকে ব্যাপারীরা ধান কিনছেন প্রতি মণ ১১শ থেকে ১২শ ৫০টাকা দরে। অনেক সময় ধানের আর্দ্রতা পরিমাপের জটিলতায় অনেক দূর থেকে বয়ে নিয়ে গিয়েও পুনরায় ধান নিয়ে ফিরে আসতে হয় যা এক প্রকারের হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না। আবার নামমাত্র ধান চাল সংগ্রহ উপজেলা কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে ধান চাল সংগ্রহে নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা। আবার অনেকেই জানেন না ধান দেয়ার নির্ধারিত সময়। উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের হাটফাজিলপুর গ্রামের ধানচাষি বকুল বিশ্বাস বলেন, এবার আমন ধান সংগ্রহে সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে এই দরে আমাদের ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাপারীরা বাড়ি থেকে ১১শ থেকে ১২শ ৫০ টাকা দরে ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই আমন মৌসুমে বাড়ি থেকে ধান বিক্রি করা লাভ। এ ছাড়াও গুদামে ধান নিয়ে গেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। পৌর এলাকার মাঠপাড়া গ্রামের চাষি আব্দুল করিম বলেন, একে তো সরকার নির্ধারিত ধানের দাম কম, আবার খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলে ধান ভিজা, চিটাসহ নানা প্রশ্ন। আবার অনেক সময় ধান নিয়ে গিয়ে ফেরত আনতে হয়, যার জন্য খাদ্যগুদামে আর ধান দেব না। আবার কখন খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ করে তা আমরা ঠিকমতো জানি না। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা ও ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন বলেন,ধানের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ করতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টায় আছি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে কিভাবে ধান ক্রয় করা যায়। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি রাজিয়া আক্তার চৌধুরী বলেন, উপজেলা খাদ্য গুদামের ধান ক্রয়সংক্রান্ত কোন তথ্য আমার জানা নেই। কয়েক দিন আগে এই ক্রয় কমিটি করেছি।

 

 

Lab Scan