অপারেটর বদলাতে ব্যর্থ ৩০ লাখ গ্রাহক, সফল সাড়ে ৮ লাখ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নম্বর না বদলে অপারেটর বদলের (মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি—এমএনপি) সেবা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়া গ্রাহকের সংখ্যা সফল গ্রাহকের চারগুণ বেশি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এই প্রযুক্তি সেবা চালুর পর থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নম্বর না বদলে অপারেটর বদল করতে পেরেছেন মাত্র ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩ জন গ্রাহক, সেখানে ব্যর্থ হয়েছেন ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৫ জন। এমএনপি নিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিটিআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্য অপারেটরে যাওয়ার দিক দিয়ে শীর্ষে আছে গ্রামীণফোন। আর বিভিন্ন অপারেটর ছেড়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক যোগ দিয়েছেন রবিতে। তবে গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের বকেয়া পাওনাসংক্রান্ত জটিলতা (এনওসি বন্ধ) থাকার পরও এমএনপি বন্ধ হয়নি, চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এমএনপি আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার (গড়ে ৪০ শতাংশ) বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। গ্রাহকরা এমএনপির অনুরোধ জানালে ডোনার অপারেটররা (যাদের কাছ থেকে গ্রাহকরা অন্য অপারেটরে যেতে চান) বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৪০-৪৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখান করছে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এমএনপির আবেদনকারী ১০ শতাংশের বেশি নয় বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, এমএনপি আবেদন প্রত্যাখানের দিক দিকে এগিয়ে রয়েছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক।
তৃতীয় পক্ষ হিসেবে এমএনপি সেবা দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমএনপি সেবার সংখ্যাগত দিক দিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেবার চালুর দ্বিতীয় বছরে আরও বড় ফিগার আমরা আশা করেছিলাম, কিন্তু তা হয়নি। শুরুটা ভালো হয়নি। বছরের আরও ৯ মাস বাকি। আশা করছি, বাকি সময়ে নম্বর পোর্টিং রেট (অপারেটর বদল) ভালো হবে।’ বিটিআরসি’র প্রতিবেদন বলছে, গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের আবেদন সফল হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৯৩টি, প্রত্যাখ্যান হয়েছে ৯৭ হাজার ২৪০টি। রবির গ্রাহকদের আবেদন সফল হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার, প্রত্যাখান হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৯৮টি। বাংলালিংকের গ্রাহকরা অন্য অপারেটরে যাওয়ার জন্য যে আবেদন করেছিল তার মধ্যে সফল হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৮টি। তবে প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যানের কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। আর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক ছাড়ার জন্য আবেদনের মধ্যে ৯ হাজার ৫৮২টি সফল হয়, প্রত্যাখান করা হয় ৮ হাজার ১৪৩টি।

ভাগ