শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলায় নয় আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন আর ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাবনার আলোচিত ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ২৫ জনের যাবজ্জীবনসহ ১৩ জনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান ওরফে ন্যারা বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ওরফে ভিপি শাহীন, শহীদুল ইসলাম অটল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে শুধু জাকারিয়া পিন্টু পলাতক থাকলেও অপর আসামিরা কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি ও পথসভার করার কথা ছিল। শেখ হাসিনার বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে বিএনপি নেতাকর্মীরা ট্রেন ও তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুন করে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরের বছর পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করে। পরে আদালত ওই চার্জশিট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করেন। পরে সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এদিকে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে গত মাসের ৩০ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। মঙ্গলবার মামলার আরো দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই মামলার আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ৫২ আসামির মধ্যে পাঁচজন ইতিপূর্বে মারা যাওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণের পর আদালত বুধবার এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে নয়জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন বিচারক। এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, এই রায় একটি প্রহসনের রায় হলেও, আদালতের রায় আমরা মেনে নিলেও, দ্রুত আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পাবনার ঈশ্বরদী ও পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এদিকে আদালত চত্বরে আসা আসামির স্বজনরা রায় ঘোষণার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীরা রায়ের প্রতিবাদে কোর্ট চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও আনন্দ মিছিল শুরু করে।এ সময় কোর্ট চত্বরে উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাগ