শিশু আয়েশাকে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানসিক প্রতিবন্ধী দুই বছরের সেই শিশু আয়েশা খাতুনকে হত্যার অভিযোগে সৎ মা পারভীন সুলতানাকে আটক এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই জয়ন্ত সরকার বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
আটক পারভীন সুলতানা শহরের খড়কি ধোপাপাড়ার লরেন্স রায়ের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওয়াসকুরুনী ওরফে পিন্টুর দ্বিতীয় স্ত্রী।  মঙ্গলবার পুলিশ পারভীন সুলতানাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এসআই জয়ন্ত সরকার মামলায় উল্লেখ করেছেন, পারভীন সুলতানার স্বামী পিন্টু রাজমিস্ত্রি। তিনি প্রথম স্ত্রী জান্নাতুলের মেয়ে আয়েশা ও ছেলেকে এনে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন সুলতানার কাছে রেখে দেন তাদের লালন পালনের জন্যে। কিন্তু পারভীন সুলতানা প্রথমে অপরাগতা প্রকাশ করলেও স্বামীর ভয়ে তাদেরকে নিজের কাছে রেখে দিতে বাধ্য হন। আয়েশা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। এ কারণে নিজের কথা শুনতে বাধ্য করতে পারভীন সুলতানা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মারধর করতেন। ঝাড়– দিয়েও তাকে মারধর করা হতো। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে শিশুটিকে নির্যাতন না করার জন্যে তাকে নিষেধও করেন। এর এক পর্যায়ে পারভীন সুলতানা শিশু আয়েশা ও তার ভাইকে নিজ মায়ের কাছে রেখে আসার জন্যে স্বামীকে জানান। কিন্তু পিন্টু রাজি না হওয়ায় এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ কারণে ক্ষুব্ধ পারভীন সুলতানা শিশু আয়েশাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১৩ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে পিন্টু কাজের সন্ধানে বাইরে যান। এই সুযোগে আয়েশাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছেলেকে খেলা করার কথা বলে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেন পারভীন সুলতানা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আয়েশাকে কিলঘুষি ও খামচি দিয়ে জখমসহ ঝাড়– দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। চুল ধরে ঘরের দেওয়ালের সাথে তার মাথায় আঘাত করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে আশেয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে আয়েশাকে হাসপাতালে নিয়ে যান পারভীন সুলতানা। হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে নিহতের পিতা পিন্টু হাসপাতালে আসেন। ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্যে তিনি মেয়ের লাশ নিয়ে যান। এ সময় তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, লাশ দাফন শেষে মামলা করবেন। কিন্তু তিনি মামলা করতে না আসায় সোমবার বিকেলে পুলিশ তার ভাড়া বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে কাউকে কিছু না বলে পিন্টু কোথায় চলে গেছেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে এসআই জয়ন্ত সরকার বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এছাড়া মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পারভীন সুলতানার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। যার ভেতর আয়েশার মুখে কালো কসটেপ এবং কাপড় দিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতনের ছবি পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আসামি পারভীন সুলতানাকে খড়কির ভাড়া বাড়ি থেকে আটক করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে রিমান্ডের আবেদন জানাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের বিষয়টি জানানো যাবে না।

Lab Scan