শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় চৌগাছার অভিভাবক মহল

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা উপজেলায় শিক্ষা উপকরণের দাম অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। খাতা, বই, কলমসহ সব কিছুর দাম এতোটাই বেড়েছে যে সন্তাদির পড়ালেখা করানোই যেন দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে এমনটিই মনে করছেন অভিভাবক মহল। চৌগাছা উপজেলাতে শিক্ষা উপকরণের দাম গত কয়েক মাস ধরে পাগলা ঘোড়ার মত ছুটতে শুরু করেছে। প্রতি দিনই কোন না কোন পণ্যের দাম বাড়ছে। আর কয়েক দিন পরেই নতুন শিক্ষা বছর শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষা বছরকে সামনে রেখে সব ধরনের বইয়ের দাম বেড়েছে। নতুন বছরে এসব বইয়ের দাম কোথায় যেয়ে থামে তা নিয়ে সকলেই চিন্তিত। এছাড়া খাতা তৈরি ও ফটোকপির সাদা কাগজের দাম বেড়ে এখন দ্বিগুণ হয়েছে। উপজেলার বেশ কিছু লাইব্রেরি ও পাইকারি কাগজ বিক্রির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বিক্রি করতে যেয়ে ক্রেতার সাথে বাক বিতান্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বসুন্ধরা, ফ্রেশ, পারটেক্স, নিটোল, আম্বার, ডিমাই, সোনালীসহ সব কোম্পানি কাগজের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা যখন যে দামে কাগজ কিনছেন সেই অনুযায়ী বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, গত বছরে যে কাগজ ২৩০ টাকা রিম বিক্রি করেছি এখন তা ৪৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ২১-৩৪ সাইজের কাগজ ১৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ১০০০ হতে ১১০০ টাকায়। ২০-৩২ সাইজের কাগজের দাম গত বছর ছিলো ১০২০ টাকা বর্তমানে দাম বেড়ে হয়েছে ১২০০ টাকা। সামনের দিনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে এই ব্যবসায়ী মনে করছেন। সব ধরনের বই ১৫ হতে ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে বলে জানান লাইব্রেরি মালিকরা। এছাড়া শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য পেন্সিল, ইরেজার, পেন্সিল কার্টার, জ্যামেতি বক্স, ক্লিববোর্ডের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এই সময়ে শিশুদের জন্য ক্লিববোর্ড ৯০ হতে ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এ বছর তা ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি ছোট সাইজের ক্যালকুলেটার ১৮০ হতে ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে আড়াইশ টাকায়। এছাড়া ছোট বড় খাতার দামও অনেক বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। শিক্ষা উপকরনের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ার কারনে বিক্রির সময় অভিভাবকদের সাথে অনেক সময় বাকবিতান্ডে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। অভিভাবক  বিএম আইনাল, কবির হোসেন, সেলিম রেজা, সালমা খাতুন জানান, আগেও যে পরিমাণ আয় করেছি এখনও সেই একই ধরনের আয় করছি। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। এতোদিন ধরে নিত্যপণ্যের দামসহ অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। কষ্ট করে সামাল দিয়ে চলার চেষ্টা করছি। এখন সন্তানদের পড়ালেখার করানোর জিনিসের দাম বেড়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার দরের কাছে যখন চরম অসহায় ঠিক সেই সময়ে সন্তানদের শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধির খবর মরার পরে খাড়ার ঘার মত অবস্থা।

Lab Scan