শিক্ষক নিয়োগে আর কতো বিলম্ব

0

পিয়াস সরকার॥ দীর্ঘ অপেক্ষা, সংগ্রাম, আন্দোলন, নানা ভোগান্তি শেষে প্রায় তিন বছর পর নিয়োগ পেয়েছেন ৩৮ হাজার শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক গৃহীত ১৫তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সদ্য যোগদান করেছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এবার অপেক্ষা ২০১৯ সালে পরীক্ষা দেয়া ১৬তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা কবে পাবেন নিয়োগ? এনটিআরসিএ সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে প্রতি বছর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, যোগ্য শিক্ষকদের মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে থাকে। ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২৩শে মে ২০১৯ সালে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩০শে আগস্ট ২০১৯ সালে। ওই বছরের ১৫ এবং ১৬ই নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোচ্চ ২ মাসের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ১ বছর পর। তখন থেকেই ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরিবারের প্রার্থীদের হতাশার শুরু।
তারপর ২রা ডিসেম্বর ২০২১ সাল থেকে ভাইভা শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। ভাইভা শেষ করতেও সময় লেগে যায় অনেক। প্রায় ১০ মাস পর ২১শে সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের সম্পূর্ণ ভাইভা শেষ করে। এতো দীর্ঘ সময় অন্য কোনো নিবন্ধন ব্যাচের লাগেনি। ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৭ই অক্টোবর। মাত্র ৭ দিনের ভাইভা পরীক্ষা বাকি থাকায় ১৬তমরা ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পদে পদে শুধু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আবেদন নেয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ৩ বছর সময় লাগে। বর্তমানে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তির আশায় দিন গুনছেন তারা।
বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন না পড়া ১৫ হাজার পদের ওপর বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তির চূড়ান্ত সুপারিশের পর শূন্যপদের চাহিদা নিয়ে পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীদের দাবি নতুন করে শূন্যপদের তালিকা নিয়ে এবং ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির অবশিষ্ট শূণ্যপদ সমন্বয় করে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা। এ ছাড়াও তারা দাবি করেন ইনডেক্সধারীরা নতুন প্রার্থীদের সঙ্গে আবেদন করে বেশিরভাগ পদ তারাই দখল করে নিচ্ছেন। পরবর্তীতে অনেকেই যোগদান করছেন না। এতে করে ওই পদ আবারো শূন্য থাকছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে গিয়ে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান শিক্ষক শূন্যতায় ভুগছে। এতে করে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ১-১৬তম সকল প্রার্থীদের দাবি ইনডেক্সদের আলাদা করে নতুন প্রার্থীদের সম্পূর্ণ নতুন গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া।
নিয়োগ প্রত্যাশী এমএ আলম বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার ৭৩ জন সুপারিশ পান। তৃতীয় চক্রে ১৫ হাজার পদে কোনো আবেদনই পড়েনি। এই ১৫ হাজারের মধ্যে ৮ হাজার নারী কোটা আর বাকিগুলো হাওড় অঞ্চলের এবং ননএমপিও পদ। যেগুলো আসলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পূরণ করা যাবে না। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিকভাবে ওই ১৫ হাজার পদের জন্য একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে শুনেছি। এত অল্প পদের গণবিজ্ঞপ্তি হলে নিবন্ধনধারীদের চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই শূন্যপদ শূন্যই রয়ে যাবে। নিবন্ধনধারীরা বেকারই থেকে যাবে। আমরা বর্তমান শূন্যপদের ই-রিকুইজিশন নিয়ে দ্রুত ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। নিয়োগ প্রত্যাশী মো. রাশেদ বলেন, ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য আমরা বারবার এনটিআরসিএতে স্মারকলিপি জমা ও সাক্ষাৎ করি। আমাদের বলা হয়, ৩য় চক্রের প্রার্থীদের চূড়ান্ত সুপারিশ করে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তাহলে নিবন্ধনধারীদের হতাশা বাড়িয়ে কিসের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি? আমাদের অনেকেরই বয়স ৩৫ বছর পার হয়ে গিয়েছে আবার অনেকের ৩৫ বছর এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। আমরা এই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে কি করবো? বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র আমাদের জন্য প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খান বলেন, আশা করছি আগামী মার্চের শেষে চতুর্থ গণনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবো। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার শিক্ষক পদের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৩৪ হাজার ৭৩ জন প্রার্থীকে সুপারিশপত্র দেয়া হয়েছে। এখানে ১৫ হাজারের বেশি পদ খালি থাকছে। সে পদগুলোতে নিয়োগের সুপারিশ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে।

Lab Scan