শালিখায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চুরি মামলা দায়ের

আড়পাড়া (মাগুরা) সংবাদদাতা ॥ শালিখায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মোটরসাইকেল চুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ দুই যুবককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ মিথ্যা মামলার বাদিকে সহযোগিতা করায় শালিখা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান কলেজ ক্যাম্পাস সংলগ্ন তার নিজের বাড়িতে বসবাস করেন। তার প্রতিবেশী রবিউল আলম মিলন ও সাংবাদিক সোহাগ হাসান সন্ধিকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চলেছেন। সন্ধির পিতা করিম মোল্যা ২০ বছর আগে মারা গেছেন। তারপর থেকে খলিলুর রহমান জমাজমি সংক্রান্ত বানোয়াট ঝামেলা সৃষ্টি করে কখনো পুলিশ, কখনো মাস্তান দিয়ে তাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন বলে সন্ধির মা আঞ্জুমান আরা অভিযোগ করেন। আঞ্জুমান আরা বলেন, ’তিনি বাড়িতে আসা-যাওয়ার পথের জন্য ২ শতক জমি ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগে থেকেই। পরবর্তীতে খলিলুর রহমান ছেড়ে দেয়া প্রায় দুই শতক জমিই দখল করে তার প্রাচীর দিয়েছেন। এরপর তিনি দাবি করছেন পথ বাবদ জমি দিতে হবে। তার দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করায় তিনি বিভিন্নভাবে তার পরিবারকে হয়রানি করে চলেছেন। ২০১৩ সালে একদিন আঞ্জুমান আরা ডাক্তার দেখাতে গিয়ে বাড়ি এসে দেখেন তার উঠানের অর্ধেক জায়গা দখল করে খুঁটি পুতে রাখা হয়েছে। তখন তিনি জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সেই খুঁটিগুলো তুলে ফেলেন। তারপরও থেমে থাকেননি খলিলুর রহমান। পরে কিছু মাস্তান প্রকৃতির লোক দিয়ে ৪০/৫০টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন’। আঞ্জুমান আরা বলেন, ’গত ৩০ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট আমার বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসেন খলিলুর রহমান। পুলিশ এসে বলে খলিল সাহেব একজন ক্ষমতাশালী লোক। তার সাথে ঝামেলা করলে আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। তার চেয়ে নিজেরা ঝামেলা মিটিয়ে নিন। নইলে আমাকেই ব্যবস্থা নিতে হবে আপনার বিরুদ্ধে’। এ ঘটনার পরের দিন রাতে খলিলুর রহমানের বাড়ি থেকে তার মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে মর্মে একটি সাজানো মামলায় মিলন ও সোহাগকে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মামলা করার পরদিন তিনি পথের জায়গা দাবি করে অফিসের লোক পাঠান কথিত আসামিদের বাড়িতে। এতে আসামিপক্ষ রাজি না হওয়ায় উল্লেখিত দুই ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে পরিবারটি।

ভাগ