শালিখায় গলাকাটা ব্রিজের পাশে শায়িত ছয় মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণের দাবি

0

শহিদুজ্জামান চাঁদ,শালিখা (মাগুরা) ॥ শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে গলাকাটা ব্রিজের পাশে চিরশায়িত ৬ মুক্তিযোদ্ধার শহীদ দিবস ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিন গলাকাটা ব্রিজের পাশে ৬ মুক্তিযোদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল। এই স্থানটি আজও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। শতখালীর ছয়ঘরিয়া এলাকার লোকজন বলতে পারেন না গলাকাটা ব্রিজের পাশে কাদের হত্যা করা হয়েছিল। শুধু জানেন ৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকাররা ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করে এখানে গণকবর দিয়েছিল। বিজয়ের আর মাত্র সাত দিন বাকি ছিল। পাশেই রামকান্তপুর গ্রামের দক্ষিণের বিল দিয়ে নৌকা বেয়ে চলে যাচ্ছিল এই ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। সীমাখালী এলাকার রাজাকাররা খবর পায় রামকান্তপুর বিলের মাঝদিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভেতরে চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে ধাওয়া করে তাদের ধরে এনে প্রথমে মারধর করে। পরে এই গলাকাটা ব্রিজের উভয় পাশে তাদের দিয়ে কবর খুড়িয়ে কবরে শায়িত করানো হয়। এরপর চলে বেয়নেট চার্জ। তৃষ্ণায় তাদের গালে প্রসাব করা হয়। পরে গুলি করে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে তাদের মাটি চাপা দেওয়া হয়। এসব কথা বলেন প্রত্যক্ষর্দশী মাস্টার মকছেদ আলী। গলাকাটা ব্রিজের পাশে এই দুটি গণকবরে যে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা চিরশায়িত তারা হলেন, শালিখার বুনাগাতী ইউনিয়নের দেশমুখপাড়া গ্রামের সৈয়দ আকরাম হোসেন,মমিন উদ্দিন মোল্যা ও মান্নান জমার্দ্দার এবং হাটবাড়ীয়া গ্রামের আবদুর রউফ বিশ্বাস। এছাড়া অন্য ২ জন ছিলেন মোহাম্মদপুর এলাকার। এদের সম্পর্কে আজও অজ্ঞাত। হাটবাড়ীয়া গ্রামের মোহন কমান্ডারের নেতৃত্বাধীনে থেকে এরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। শালিখার হাজরাহাটি ও গলাকাটা ব্রিজের পাশে গণকবরে অচিরেই স্মৃতি সৌধ গড়ে তুলে সবার দৃষ্টিতে আসে এমন নামফলক স্থাপন করা হলেই শহীদদের স্মৃতির প্রতি কিছুটা শ্রদ্ধা নিবেদিত হয় বলে এলাকার সচেতন মহল দাবি করেন। এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাস্টার আবু বক্কার বলেন,ছয়ঘরিয়া গলাকাটা ব্রিজের ওখানে একটি স্মৃতিসৌধ করা উচিৎ। আমি সরকারের উর্ধতন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো৷ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিফ-উল হাসান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

Lab Scan