শার্শার লক্ষণপুরে খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ

0

 

নাভারণ (যশোর)সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় খতিয়ানভুক্ত করে দাখিলা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকান্ডে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যশোর জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন। অভিযোগে জানা যায়, শার্শার ৫৫ নং হরিনাপোতা মৌজার যাহার এসএ দাগ নং ৪৭৪ আর এস খতিয়ান ৭৭, দাগ নং ২১৩ জমির পরিমাণ ৩০ শতক। যা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি। জমিদারী এ সম্পত্তিটি সরকার মিস কেস যাহা নং-২১/এক্স ১১১/৮৮-৮৯, পি.ও ৯৮/৭২ ধারা সরকারি-১ খতিয়ানভুক্ত হয়। কিন্তু সরকারি এ সম্পত্তিটির কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান সুকৌশলে আবু তাহের ওরফে আবু তালেব নামে একজন মৃত ব্যক্তির(মৃত্যুর তারিখ -২/৬/২০১৭ইং) নামে খতিয়ান ভুক্ত করেন এবং গত ১৯/১০/২১ইং তারিখ একটি খাজনার দাখিলা প্রদান করেন। যার দাখিলার ক্রমিক নং ৪১৯০২১০০০৩৬৯। সরকারি এ সম্পত্তিটি শ্রেণিভুক্তে বাস্ত হলেও দাখিলায় দেখানো হয়েছে কৃষি। এদিকে দাখিলা পাওয়ার পর আবু তাহের ওরফে আবু তালেব এর ওয়ারেশ সাহেব আলী দাখিলা সূত্রে পাওয়া এ সম্পত্তি গত ২৬/১০/২১ইং তারিখে একই গ্রামের হাবিবুল্লাহ্র ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের নিকট কবলা দলিলের মাধ্যমে সরকারি এ জমিটি ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। যার দলিল নং- ৮৭৫২ তারিখ ২৬/১০/২০২১ইং এবং দলিলের টোকেন নং- ৮৭৫৪ তারিখ-২৬/১০/২০২১ ইং । এদিকে চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে যশোরের জেলা প্রশাসক সরকারি জমির দাখিলা প্রদানের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তার খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্যি। তিনি এখানে অনেক অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এলাকার জমির মালিকরা তার দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আমি এবং আমার এলাবাসীর। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে আসলে ঘটনাটি কী? এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, অভিযোগের আবেদনটি আমিও পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

Lab Scan