শার্শার আলোচিত ইসরাফিল হত্যা মামালায় আ.লীগ নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের আলোচিত ইসরাফিল হোসেন (৩৭) হত্যা মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন তরফদারসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া এবং জমি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে তাকে হত্যা করা হয় বলে সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে নুর আলম, মৃত আহম্মদ আলী তরফদারের ছেলে উলশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন তরফদার, ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, রাঢ়ীপুকুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মীরের ছেলে ও কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মালেকের জামাই মেহেদী হাসান, কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোকাম্মেল হোসেন ওরফে কুশো মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ ওরফে আজিজুর রহমান ও আনিছুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ জনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ২৭ আগস্ট কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে বিড়ি শ্রমিক ও মাদক ব্যবসায়ী ইসরাফিল হোসেন নিখোঁজ হন। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ না পেয়ে এ ঘটনায় স্ত্রী রোজিনা বেগম ২৯ আগস্ট শার্শা থানায় একটি জিডি (১১৭৫) করেন। এই জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজ ইসরাফিল হোসেনের সন্ধানে মাঠে নামেন তিনি। এরপর তথ্য প্রযুুক্তির সাহায্যেসহ নানা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে নুর আলম, মোশারফ হোসেন তরফদার ও স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইসরাফিল হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোড়লবাড়ি বড় কবরস্থান থেকে মাটিচাপা দিয়ে রাখা তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে, আসামি মর্জিনা বেগমের ভাই আলী নুর বিদেশ থাকেন। তার স্ত্রী রিনার সাথে ইসরাফিল হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। মর্জিনা বেগমের স্বামী ইসমাইল হোসেন মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিলো আসামি নুর আলমের। বিষয়টি জানতেন আসামি মোশারফ হোসেন। তিনিও মর্জিনা বেগমকে কাছে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাত্তা পাননি। এরই মধ্যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইসরাফিল হোসেন প্রতিনিয়ত নানাভাবে ডিস্টার্ব করায় মর্জিনা বেগম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। দু দফা এলাকায় এ নিয়ে শালিস হলেও ইসরাফিল হোসেনকে নিবৃত্ত করা যায়নি। তারওপর আবার ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলায় পথের কাঁটা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন মর্জিনা বেগম। এ জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত মোশারফ হোসেনের সাথে ‘সম্পর্ক স্থাপনে’ সাড়া দেন এবং হত্যা করার জন্য তাকে দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ভিকটিম ইসরাফিল হোসেন এবং আসামি মোশারফ হোসেন, নুর আলম ও মেহেদী হাসান ৪ জনই ছিলেন মাদকসেবী। তারা একসাথে বসে নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। একদিন মাদকের আসরে ইসরাফিল হোসেনকে হত্যা এবং এর বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলে কৌশলে মেহেদী হাসান ও নুর আলমকে জানিয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৭ আগস্ট রাতে মাদক সেবনের প্রস্তাব দিয়ে ইসরাফিল হোসেনকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে মোড়লবাড়ির বড় কবরস্থানে যেতে বলেন নুর আলম ও মেহেদী হাসান। পরে সেখানে যাওয়ার পর ইসরাফিল হোসেন, মেহেদী হাসান ও নুর আলম মাদকদ্রব্য সেবন করেন। এরই মধ্যে কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই কাছে থাকা গামছা ইসরাফিল হোসেনের গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মেহেদী হাসান। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা দুজনে পরে তার বুকের ওপর কিছু সময় বসে থাকেন। ২ ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়ার পর মেহেদী হাসান ও নুর আলম বাড়ি ফিরে যান। পরে কোদাল নিয়ে ফের কবরস্থানে যান তারা। এরপর একটি ভাঙা কবর খুঁড়ে তার মধ্যে নিহত ইসরাফিল হোসেনের লাশ মাটিচাপা দেন এই দুজনে। তিনি বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে আব্দুল আজিজ ও মোহাম্মদ জনির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ কারণে তাদেরকেও চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুল আজিজ বাদে অন্যদের বিভিন্ন সময় আটক করা হয়েছে। পলাতক থাকায় চার্জশিটে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।

Lab Scan