শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

আজ শোকার্ত ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতি আজ স্মরণ করছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাদের হারিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। একই সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করছে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের স্বজনদের প্রতি, যারা দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বয়ে চলেছেন আপনজনকে নির্মমভাবে হারানোর বেদনা ও কষ্ট। এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দালালরা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশ যাতে কখনই স্বনির্ভর না হতে পারে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যাতে রক্ষা করতে না পারে। যুদ্ধের শুরু থেকেই হানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল, একেবারে শেষদিকে এসে পরাজয়ের আগ মুহূর্তে তা চুড়ান্ত রূপ দেয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকান্ডে হানাদাররা তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকারদের সহযোগিতায় বেছে বেছে হত্যা করেছিল শিক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা চেয়েছিল স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়া দেশটিকে মেধায়-মননে পঙ্গু করতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এদেশের কিছু কুলাঙ্গারই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানী ঘাতক বাহিনীর হাতে, কোন কোন েেত্র নিজেরাই হত্যাযজ্ঞ সম্পন্ন করেছে।
পাকিস্তানী দুঃশাসনের দিনগুলোতে বরেণ্য সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির বিবেক। পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালী জাতির সংগ্রামে তারা সর্বদা রাজনীতিকদের দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা দিয়েছেন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিচারের দাবিটি স্বাধীনতার পর পরই ওঠে। বিচারকাজও চলছিল। একাত্তরে যারা হত্যাযজ্ঞ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে জড়িত ছিল তাদের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সমাপ্তির পথে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আরও বাকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রায় ঘোষণার অপোয় আছে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ড একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর মধ্যে ঘৃণ্যতম। সবাই মনে করে এসব হত্যাযজ্ঞে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, প্রত্য বা পরোভাবে জড়িত ছিল, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব। এসব ঘাতকের চূড়ান্ত বিচারের মাধ্যমেই জাতি দায়মুক্ত হতে পারে।

ভাগ