শরণখোলায় সেচ সংকটে অনিশ্চয়তায় বোরো আবাদ

0

নজরুল ইসলাম আকন,শরণখোলা(বাগেরহাট)॥ শরণখোলায় সেচ সংকটে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বোরো ধানের আবাদ। পানির অভাবে চাষিরা সময়মতো জমি চাষ করে বীজ উৎপাদন ও রোপণ কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। পানির উৎসস্থল স্থানীয় খাল- নালা পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় চাষের জন্যে এখন আর পানি মিলছেনা। ফলে এবারের বোরো ধানের চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল খনন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, শরণখোলা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে এ বছর ৬৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চফলনশীল জাতের ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে।
কৃষি অফিস থেকে চাষিদের ধান বীজ,কীটনাশক সরবরাহসহ চাষের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে সুন্দরবন উপকূলীয় শরণখোলায় বোরো ধান চাষের প্রধান বাধা হচ্ছে মিষ্টি পানির অভাব। স্থানীয় খালসমূহ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের চাষি রেজাউল গাজী, ফারুক আকন,আলম হাওলাদার,চালিতাবুনিয়া গ্রামের শরৎ মন্ডল,এমদাদুল হক,জাহাঙ্গীর তালুকদার জানান, লবণাক্ততার কারণে আগে তাদের এলাকায় বছরে একবার বর্ষা মৌসুমে আমন ধানের চাষ করা হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগ লবণ সহিঞ্চু জাতের ধান উদ্ভাবন করায় এ এলাকার চাষিরা গত কয়েক বছর ধরে বোরো চাষে ঝুঁকেছেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন রাজিব জানান, দরিদ্র চাষিদের বছরে একাধিক চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মরে যাওয়া খালগুলো দ্রুত খনন করা উচিৎ। তা না হলে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে দরিদ্র চাষিদের টিকে থাকা মুশকিল হবে।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি অফিসার দেবব্রত সরকার বলেন, এ বছর শরণখোলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬৬০ হেক্টর। আমাদের ব্যাপক প্রচেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনায় এ লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার হেক্টরে উন্নীত হতে পারে। চাষিদেরও আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আমাদের মূল অন্তরায় রয়েছে সেচের পানির অভাব । উপজেলার ৪৫ টি খালের মধ্যে অগভীর খালগুলো চিহ্নিত করে তা খনন করতে বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ ব্যাবস্থাপনায় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

 

Lab Scan