লোনা পানিতে নষ্ট বিল ডাকাতিয়ার ধান

0

এম রুহুল আমীন, ডুমুরিয়া (খুলনা)॥ পরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেইট খুলে মাছ ধরা ও চিংড়ি চাষের জন্যে লোনা পানি ঢোকানোর কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ডাকাতিয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে নষ্ট হচ্ছে কয়েক হাজার বিঘার ধান। ধান উৎপাদনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষেত ছেড়ে দিয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অনেক কৃষক। সারা বছরের খাদ্যের যোগান পাওয়া যায় যে বোরো ধান থেকে সেই ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছেন কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত শ শ কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) দোষারোপ করলেও পাউবোর কর্মকর্তারা দায়ী করলেন স্থানীয় জনগণকে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম স্থান বিল ডাকাতিয়া। দীর্ঘদিনের স্থায়ী পানিবদ্ধতার কারণে ৯০-র দশকে জনগণ ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে জোয়ার ভাটা চালু করে। পরে কৃষকেরা পকেট ঘের তৈরি করে মাছ ও ধান চাষ করে আসছিলেন। উত্তর ডুমুরিয়ার কৃষ্ণনগর গ্রামের ধান চাষি বিদ্যুৎ মন্ডল, তারক চন্দ্র মন্ডল, শতদল ঘরামি, অলোক সরকার, বিদ্যুৎ ঘরামি, সুনিল মন্ডল ও রবিন সরকারসহ অনেকেই বলেন, শৈলমারী স্লুইস গেইট ভায়া শলুয়া, আমভিটা ও থুকড়া গেইট দিয়ে আশ্বিন-কার্তিক মাসে লবণ পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি মাছ চাষ ও জাল দিয়ে মাছ ধরে একটি মহল। ফলে বিল ডাকাতিয়ায় ব্যাপকভাবে লবণ পানি প্রবেশ করে। একদিকে শলুয়া গেটের কপাট ভেঙে গেছে অন্যদিকে আমভিটা এবং থুকড়া গেইটে কপাট না থাকার কারণে অরক্ষিত হয়ে পড়ে আছে। উঠানো পানির লবণাক্ততা তীব্র হওয়ায় বর্তমানে ধানের গাছ ব্যাপকভাবে মারা যাচ্ছে। ধান উৎপাদনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভে-দুঃখে ক্ষেত ছেড়ে দিয়েছেন অনেক কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষক প্রদীপ জোয়ার্দার ও রাজু সরকারের মত অসংখ্য কৃষক লবণাক্ততায় ধান গাছ মারা যাওয়ায় ধান চাষে বাদ দিয়ে ক্ষেত পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার সকালে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে উঠে আসে এসব করুণ চিত্র।
রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না। কারা পানি উঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তা ভালোভাবে জানে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমি বিষয়টি নিয়ে বার বার বলেছি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না। চলতি বছরে কৃষকরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পূরণ হবার নয়। এগুলো স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দেখা উচিত। এমপির একার পক্ষে কতটা দেখা সম্ভব, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি নিয়ে বলছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এসবের জন্য স্থানীয় জনগণ দায়ী, তারা কেন লবণ পানি উঠায় তা আমাদের বোধগম্য নয়। ইতোমধ্যে শলুয়া গেইটে আমরা কপাট লাগিয়ে দিয়েছি।

Lab Scan