লোকসভায় মোদির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত

ভারতীয় লোকসভায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্পিকার সুমিত্রা মহাজন এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার মৌসুমের প্রথম অধিবেশন হট্টগোল দিয়ে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধিবেশনের শুরুতে জোর দিয়ে জানান, তাঁর দল রাজনৈতিক দলগুলো থেকে উত্থাপিত যেকোনো বিষয়ে বিতর্কের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, প্রত্যেক এমপি, সব পার্টি এই অধিবেশনকে ফলপ্রসূ করবে। আমি সব সময় এই আশা করি এবং সেই প্রচেষ্টায় চালাই।’
এ সময় লোকসভায় শোরগোল শুরু হয়। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সামনেই বিরোধী দলের সদস্যরা ‘আমরা বিচার চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ রাজ্যের তকমা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। সেই সূত্র ধরেই এই স্লোগান দেন তাঁরা। কংগ্রেসও জানায়, অন্ধ্র প্রদেশের এই দাবিকে তারা সমর্থন করে। অবশ্য অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলেও মোদি সরকারর ওপর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, লোকসভায় ২৭৩ জন সদস্য রয়েছে মোদি সরকারের।
দেড় দশক পরে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর আগে শেষবার লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয় ২০০৩ সালে।
তার আগে অবশ্য ১৯৯৯ সালে অনাস্থা ভোটেই ১৩ মাসের মাথায় সরকার পড়ে যায়। সেই সময় জয়ললিতা বিজেপির উপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ায় আস্থা ভোটের মুখে পড়ে বাজপেয়ি সরকার। মাত্র এক ভোটের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় সরকার। এটাই এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে অনাস্থা ভোটের ফলাফল নির্ধারণের নজির। সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনই টিডিপির অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। শুক্রবার (২০ জুলাই) এই প্রস্তাবের উপর আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে বলে নোটিশ দিয়েছেন তিনি। যদিও তাতে সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ বিজেপির হাতে পর্যাপ্ত সাংসদ সংখ্যা রয়েছে। তবু ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ও শাসক দল উভয়েরই শক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই অনাস্থা প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভাগ