লাভের আশায় অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলছেন কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় কৃষকরা মৌসুমের বেশ আগে ভাগেই পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন অনেকে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে কাট পেয়াঁজের চাষ হয়েছে। কাট পেঁয়াজ থেকে উৎপাদিত কালি (পেঁয়াজের ফুল) বিক্রি করে কৃষক বেশ লাভবান হয়। কালি শেষ হওয়ার পর জমি থেকে কৃষক যে পরিমাণ পেঁয়াজ পায় তাতেই সন্তষ্ঠ থকেন। তবে এ বছর পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বি হওয়াতে অনেক কৃষক কালির পরিবর্তে অপরিপক্ক পেঁয়াজ তে থেকে তুলে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।
শনিবার উপজেলার তারিনিবাস, বেলেমাঠ, বাঘারদাড়ি, স্বরুপদাহ, কদমতলাসহ বেশ কিছু গ্রামের মাঠে দেখা যায় চাষিরা পেঁয়াজ তে পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। কথা হয় তারিনিবাস গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, প্রতি বছরই তিনি পেঁয়াজ চাষ করেন, এ বছরও এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তবে চলতি বছর পেঁয়াজ চাষে তার অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের বীজ কেজি প্রতি ১শ টাকা দরে কিনে বপণ করা হয়েছে। এক বিঘা জমিতে তিনি প্রায় সাড়ে ৫ মণ বীজ বপন করেছেন। এ ছাড়া সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক দিয়ে অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় খরচ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। ওই মাঠে কৃষক ইউছুপ আলী, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, মন্টু মিয়া, হায়দার আলী, মহিদুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, আতিয়ার রহমানসহ অনেকে কাট পেঁয়াজের চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, কার্তিক মাসে জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ বীজ বপণ করা হয়। কৃষকরা আরও জানান, উপজেলার বেশ কিছু এলাকা থেকে কাট পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এই পেঁয়াজ এখনও পরিপক্ক হয়নি। বর্তমানে বাজার দর ভালো থাকায় চাষিরা অধিক মুনাফার আশায় পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা রইসউদ্দিন জানান, উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মাটির গুনাগুণ ভেদে কাট পেঁয়াজের চাষ হয়। এ বছরও ৮০ হেক্টর জমিতে এই পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এর পরপরই কৃষক ভাতি পেঁয়াজের চাষ করবেন। ইতোমধ্যে ভাতি পেঁয়াজের বীজতলা প্রস্তুত করে চারা তৈরিতে কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের দাম অধিক হওয়াতে কিছু কিছু এলাকার কৃষক অপরিপক্ক কাট পেঁয়াজ বাজারজাত করছেন। ওই সব এলাকার চাষিদের অপরিপক্ক পেঁয়াজ জমি থেকে না তোলার জন্য কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ভাগ