লাটভিয়ায় আরমানের ১৭ কোটি টাকা

ক্যাসিনো ডন সম্রাটের অন্যতম সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিদেশের একটি ব্যাংকে ১৭ কোটি টাকা রয়েছে। অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ আয় করতেন। এই টাকার একটি অংশ তিনি বিদেশের ব্যাংকে জমা রাখেন। হুন্ডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ আয়ের অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে স্যান্ডস’র ক্যাসিনোতে সম্রাটের আসা যাওয়ার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন আরমান। এছাড়াও তিনি চলচ্চিত্রের একজন প্রযোজক বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন। তার প্রযোজিত প্রথম ছবি ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ গত ঈদে মুক্তি পেয়েছে।
চলচ্চিত্রে তার চার কোটি টাকা বিনোয়াগ রয়েছে।
আরমান জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে, ক্যাসিনোসহ যত অপকর্ম তিনি করেছেন তার পেছনে প্রেরণা দিয়েছেন সম্রাট। সূত্রমতে, সম্রাট ও আরমানকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে করা হয়। তখন তারা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। সম্রাটের বিদেশে ফ্ল্যাট থাকলেও আরমানের বিদেশে কোন ফ্ল্যাট নেই বলে দাবি করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার যুবলীগের রাজনীতিতে উঠে আসা, ক্যাসিনো থেকে অর্থ আয় ও পাচার, বিদেশে অর্থের দেখভাল কারা করতেন, চলচ্চিত্রে জড়িয়ে যাওয়া ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা খুলে বলেছেন। গত ১৫ই অক্টোবর অস্ত্র ও মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ মামলায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ১০ দিন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেন আদালত। সূত্র জানায়, রিমান্ডের পাঁচ দিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে গত ২১শে অক্টোবর আরমানকে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন যে, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার নানান দিক ও ঘটনা সংক্রান্ত গুরুপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা মামলার তদন্তের স্বার্থে গোপনীয়ভাবে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। আসামি রাজনৈতিক পদ পদবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করে আসছে। তাকে আবার রিমান্ডে নিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের হয়ে আসবে। এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে আজাদ রহমান ও হেমায়েত উদ্দিন খান রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। আরমানের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সূত্র জানায়, প্রথম দফার রিমান্ডে আরমান তার ব্যক্তিগত কথা কিছুটা অকপটে স্বীকার করেছেন। আরমান জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন যে, তিনি সম্রাটের প্রডাক্ট। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে সম্রাটের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার প্রতিদান হিসাবে সম্রাটের অগ্রজ হিসাবে তার সকল কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ নিয়েছেন। সূত্র জানায়, মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় যে ক্যাসিনো চলতো তার বড় একটি অংশ ভাগ পেতেন আরমান। এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মগবাজার লেগুনা স্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার, রিকশার গ্যারেজ ও খিলগাঁও লেগুনাস্ট্যান্ড তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত দুই বছর আগে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্রাটের আরেক সহযোগী খালেদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হলে সম্রাটের হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়েছিল। সূত্র জানায়, দেশের ৩টি ব্যাংকে আরমানের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকে তার কোন উল্লেখযোগ্য টাকা নেই বলে তিনি দাবি করেন। ইউরোপের দেশ লাটভিয়ার ‘কিংস্টার কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ নামে একটি এনজিওতে তার ১৭ কোটি টাকা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ওই টাকা বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচারে মূল ভূমিকা রেখেছেন মতিঝিলের এক হুন্ডি ব্যবসায়ী। তার নাম শামসুল ইসলাম। ফকিরাপুলে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়ার ওমরাবাদ এলাকায়। আরমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই বাসার জিনিসপত্র নিয়ে শামসুল পালিয়েছেন। শামসুলের এক আত্মীয় থাকেন লাটভিয়ায়। সেই সূত্র ধরেই আরমান ওই দেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করেছেন।

ভাগ