লাঙ্গলবন্দ স্নানে পুণ্যার্থীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নানে এসে সেন প্রিয় রাণী দাস (৮০) নামে এক পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রাণী দাস মুন্সীগঞ্জের বালীগাঁওয়ের মৃত নারায়ণ চন্দ্র দাসের স্ত্রী। বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, স্নান শেষে ফেরার পথে রাণী দাস নামে এক বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
এদিকে এদিন বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে হিন্দু পুণ্যার্থীদের অষ্টমী স্নান শুরু হয়। শনিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড তিথি শেষ হবে। এ সময়ে নদের ১৮টি ঘাটে জীবন থেকে পাপমুক্তির বাসনায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ সনাতন পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে যোগ দিবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। পুণ্যার্থীদের বিশ্বাস তিথির নির্দিষ্ট সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নান করলে সব পাপ মোচন হয়ে যায়।
হিন্দু পুণ্যার্থীদের মতে পবিত্র নদ ব্রহ্মপুত্রে স্নানমন্ত্র পাঠপূর্বক নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরতকী, ডাব, আম্রপল্লব ইত্যাদি দিয়ে পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন ভক্তরা। স্নান উপলক্ষ্যে লাঙ্গলবন্দের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে মেলা। বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় সদস্য রনজিৎ মোদক জানান, এবার ললিত সাধুর ঘাট, অর্ণপূর্ণ ঘাট, রাজ ঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মা কুঁড়ি সাধুর ঘাট, মহাত্মা গান্ধী ঘাট, বড় দেশ্বরী ঘাট, জয়কালি ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, প্রেম তলা ঘাট, চর শ্রীরাম ঘাট, সাবদি ঘাট, বাসনকালী ও জগৎবন্ধু ঘাটে স্নান করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, লাঙ্গলবন্দে পুণ্যার্থীদের উৎসব যাতে নিরাপদ হয় সেজন্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ১৬শ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, লাঙ্গলবন্দে সারাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নান করতে আসেন। তাদের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোন কমতি নেই। মোবাইল টিম, ওয়াচ টাওয়ার, মহিলা পুলিশ, আনাসার বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। এছাড়া ১৮টি স্নান ঘাটসহ পুরো লাঙ্গলবন্দ সিসি ক্যামেরায় আওতাভুক্ত আছে।

ভাগ