রেকর্ড সর্বনিম্নের পর মার্চে উত্তোলন বাড়িয়েছে ওপেক

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্গানাইজেশনস অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে এক দশকের বেশি সময়ের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। তবে মার্চে জোটটির জ্বালানি তেল উত্তোলনে চাঙ্গা ভাব ফিরেছে। জোটটির নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরবের উত্তোলন বৃদ্ধি এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে গত মাসে ওপেকের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ লিবিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলার উত্তোলন কমতির দিকে ছিল। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
মার্চে ওপেকভুক্ত ১৩টি দেশ সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। আগের মাসের তুলনায় গত মাসে জোটটি পণ্যটির উত্তোলন বাড়িয়েছে দৈনিক গড়ে ৯০ হাজার ব্যারেল। গত ফেব্রুয়ারিতে ওপেকের সম্মিলিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে ২০০৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ে ২০০৯ সালে জোটটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের গিয়ে ঠেকেছিল।
জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জোটটির ব্যর্থ প্রস্তাব। চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ওপেক ও এর মিত্র দেশগুলো অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৈঠকে বসে। উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতন রোধে করণীয় নির্ধারণ। ওই সময় চীনের সীমানা পেরিয়ে নভেল করোনাভাইরাস বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংকট। পণ্যটির দাম কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। মার্চের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ২২ ডলারে নেমে গিয়েছিল, যা ছিল ২০০২ সালের পর পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম। বৈঠকে ওপেকের পক্ষ থেকে সৌদি আরব জ্বালানি তেলের বহাল চুক্তির সঙ্গে দৈনিক আরো ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে রাশিয়ার আপত্তিতে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় জোটটির বৈঠক।
এদিকে চুক্তি অকার্যকর হওয়ার জেরে রাশিয়ার প্রধান রফতানি বাজার টার্গেট করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বিশেষ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটি পণ্যটির সরবরাহ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। তবে গত মাসে পণ্যটির উত্তোলন কিছুটা বাড়ালেও তা ছিল রেকর্ড কম উত্তোলনের কাছাকাছি। খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চলতি মাস থেকে সৌদি আরবসহ ওপেকের কয়েকটি দেশ পণ্যটির উত্তোলন আরো বাড়াতে পারে।
জ্বালানি তেলের রফতানিবিষয়ক তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান, পেট্রো-লজিস্টিকের প্রধান ড্যানিয়েল জারবার বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন যে খুব বেড়েছে তা নয়। কারণ মার্চে পণ্যটির সরবরাহ চুক্তি আগেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ পরিস্থিতিকে ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। কারণ এপ্রিলে পণ্যটির সরবরাহ ও রফতানি সর্বাধিক করার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। প্রাথমিক লক্ষণগুলো খেয়াল করলে বোঝা যাচ্ছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত থেকে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের রফতানি বাড়তে শুরু করেছে।
ফলে বর্তমান পরিস্থিতি এটাই আভাস দিচ্ছে যে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের উত্তোলন ও রফতানি আবার বাড়াতে পারে ওপেক। এমনকি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনায় পণ্যটির পরিশোধন কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চলতি মাসে দেশটি দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করতে পারে।
তথ্যমতে, মার্চে সৌদি আরব ফেব্রুয়ারির তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া ও ইরাক রফতানি বৃদ্ধির প্রত্যাশায় পণ্যটির উত্তোলন সীমিত পরিসরে বাড়িয়েছে।
তবে মার্চে ওপেকভুক্ত দেশ ভেনিজুয়েলা, ইরান ও লিবিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। ভেনিজুয়েলা ও ইরানের উত্তোলন কমার পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে দেশ দুটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা। আর লিবিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে।

ভাগ