রাশিয়ার সামরিক বহর নিয়ে রহস্য

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ইউক্রেনে বদলাচ্ছে রাশিয়ার কৌশল। যুদ্ধের প্রথম থেকেই সকল হিসাব বদলে দিয়ে রুশ হামলা মোকাবিলা করে চলেছে ইউক্রেন। তাই যেভাবে ইউক্রেন দখলের প্রস্তুতি রাশিয়া নিয়েছিল তা এখন আর সম্ভব নয়। ফলে কৌশল বদলে নতুন করে যুদ্ধে নামতে হয়েছে মস্কোকে। গত কয়েক দিনে রাশিয়া যুদ্ধটাকে ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এখন ইউক্রেনের কোনো অংশই আর বাকি নেই যেখানে রাশিয়া হামলা চালায়নি। এরইমধ্যে গত সপ্তাহ থেকে ইউক্রেনে নতুন করে অত্যাধুনিক অস্ত্র ঢুকাচ্ছে রাশিয়া। নিজেদের বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইউক্রেনের বাহিনী পাল্টা আক্রমণ করতে শুরু করায় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দরকার পড়েছে রাশিয়ার। তীব্র প্রতিরোধে ধীর হয়ে গেছে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা। যুদ্ধের ২১ দিন পার হয়ে গেল, অথচ রাশিয়ার বড় কোনো অর্জন নেই। ইউক্রেনের যদিও অনেক ক্ষতি করা গেছে কিন্তু তাতে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। এ জন্য রাশিয়ার দরকার রাজধানী কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু তা অধরাই রয়ে গেছে।
আল-জাজিরার রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে কিয়েভ দখলে আক্রমণ জোরদার করেছে মস্কো। উত্তর থেকে রুশ বাহিনী এসে কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম থেকেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য ছিল কিয়েভ দখল নিয়ে নেয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বিশাল এক ট্যাংক, যুদ্ধযান ও সরবরাহ ট্রাকের সামরিক বহরের খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে। প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এই বহরের উদ্দেশ্য কিয়েভ দখল করা। কিন্তু সেটি প্রায় ১০ দিন ধরে একই স্থানে থেমে আছে। এটি হচ্ছে এই যুদ্ধের সব থেকে বড় রহস্যময় বিষয়। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেন এত বড় বাহিনী রাস্তায় থেমে আছে। ইউক্রেনের হামলার রেঞ্জের মধ্যেই কিয়েভ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ওই বহরটি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কিয়েভে পৌঁছালেই যুদ্ধের মোড় রাশিয়ার দিকে ঘুরে যাবে। কিন্তু তারপরেও রাশিয়া সেটিকে থামিয়ে রেখেছে।
কোনো কোনো রিপোর্ট বলছে, ওই সামরিক বহরের প্রথম ভাগ আক্রান্ত হয়েছে, তাই পুরো বহরটিকেই থেমে থাকতে হচ্ছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, রাশিয়ানদের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা থেমে আছে। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, চীন থেকে আমদানি করা সস্তা টায়ারের কারণে ইউক্রেনের এই উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে আর চলতে পারছে না রাশিয়া। কিন্তু এখানে আছে আরও একটি রহস্য। রাশিয়ার বাহিনী যখন থেমে আছে, তখন ইউক্রেন কেনো সেখানে আক্রমণ করছে না! তারা চাইলেই অন্তত একটি অংশ ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারতো। যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনের কাছে ৩৫৪টি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ছিল। এরমধ্যে ৮০টি ছিল নিজেদের তৈরি আডার প্রেসিশন গাইডেড এমআরএলএস। এগুলোর রেঞ্জ ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ, চাইলেই তারা কিয়েভ থেকে রাশিয়ার এই সামরিক বহরে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু এখনো সেরকম কোনো পদক্ষেপ দেশটি নেয়নি।
অনেকেই বলছেন, বড় সংখ্যক রাশিয়ার সেনাদের হত্যা করে যুদ্ধ আরও কঠিন করতে চায় না ইউক্রেন। রাশিয়ার তরফ থেকে তখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে আগ্রাসন চালানোর আশংকা ছিল। যদিও রুশ সামরিক বহরে হামলার সুযোগ এখন আর নেই। কারণ রাশিয়া এরইমধ্যে কিয়েভে লাগাতার হামলা শুরু করে দিয়েছে। একাধিক মিসাইল আঘাত হেনেছে শহরের বিভিন্ন অংশে। গত কয়েকদিন ধরেই হামলার হার বেড়ে গেছে। শিগগিরই ভূমি থেকে কিয়েভে প্রবেশের চেষ্টা চালাবে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে বড় সফলতা পেয়েছে রুশ সেনারা। তারা এরইমধ্যে খারসন দখল করেছে। খারকিভ ও মারিউপোলও শিগগিরই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশংকা রয়েছে। রুশ বাহিনী এরইমধ্যে দুই জায়গা দিয়ে দিনিপার নদী পাড় হয়েছে এবং মিকোলাইভ ও জাপোরিজিয়া শহরে আক্রমণ করেছে। শহরগুলো বাদে বাকি এলাকা এখন রাশিয়ারই নিয়ন্ত্রণে। এখন শুধুমাত্র কিয়েভ দখলের অপেক্ষা রুশদের।

Lab Scan