রামপালে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ

0

এম এ সবুর রানা, রামপাল (বাগেরহাট)॥ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার উজলকুড় বাবুরহাট এলাকায় ৩টি সরকারি খাস খাল দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাবুরহাট উজলকুড়ের অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ ৭/৮ মাস গত হলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ, গত বছরের ৩০ মে ৫৩ জন জমির মালিক ও এলাকাবাসী বাগেরহাট জেলা প্রাশাসক বরাবর পানিবদ্ধতা নিরসন ও ধান চাষের স্বার্থে উজলকুড় মৌজার ১নং খতিয়ানের ২০ ও ৬নং দাগের বাবুরাম খাল, ২নং দাগের দুলালা খাল, সিএস ১ খতিয়ানের ৯৬০, ৯৬৩ দাগের বিলের সরকারি খাল অবমুক্তের দাবি জানান। খালের জমির পরিমাণ প্রায় ১০ একর। খালগুলো উপজেলার গাববুনিয়া (তেতুলিয়া) গ্রামের মৃত অলিয়ার রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নানসহ আরও কয়েক জন দখলে নিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছে লিজ দিয়েছেন। ভোলা নদীর সাথে সংযুক্ত খাল ৩টির গোড়ায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে এলাকাবাসী চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা বর্ষা মৌসুমে পানিবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আজিজুল ইসলাম প্রতিবেদন চেয়ে উপজেলা ভূমি অফিসকে চিঠি দেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামাল হোসেন ও গৌরম্ভা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা টিটুল মন্ডল সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কোন কথা না বলে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, খাল ব্যক্তির নামে বিআরএস খতিয়ানে রেকর্ড রয়েছে। সেখানে বসতবাড়ি এবং বিদ্যুৎ সংয়োগ আছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোন বসতবাড়ি নেই। নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ। সিএস, এসএ রেকর্ডে জনসাধারণের ব্যবহার্য খাল থাকলেও বিআরএস জরিপে সেটি রেকর্ড হয়েছে জনৈক শ্যমল সিংহ রায়ের নামে। ওই জমি তিনি আব্দুল মান্নানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে শ্যমল সিংহ রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালের ওপর আমার চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার রায় রয়েছে (দেওয়ানী ১৪২/১৯৮৬)। তবে রায়ে ওই জমি কারও কাছে বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি বিআরএস রেকর্ড পেয়েছি। বৈধভাবে আমি আব্দুল মান্নানের কাছে জমি বিক্রি করেছি।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্যামল সিংহ রায়ের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক আমি। ওই জমি আমি অন্য মানুষের কাছে লিজ দিয়েছি। তবে ক্রয়কৃত জামিতে কোন খাস খাল আছে কিনা তা আমি জানিনা। একটি কুচক্রিমহল আমার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করার জন্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ সালাউদ্দীন দিপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি পুনরায় সরেজমিন গিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

 

Lab Scan