রামপালে নির্দিষ্ট সময়ে ৮৩ টি খাল খনন বাস্তবায়নে নানান চ্যালেঞ্জ

এম. এ. সবুর রানা, রামপাল (বাগেরহাট) ॥ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮৩ টি খাল ও নদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খনন করা সম্ভব না হলে আবারও মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-প্রটোকল চ্যানেলটি হুমকির মুখে পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার এ মেগা প্রকল্পটির ৭ শ ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। যা গত ২০১৮ সালের জুনে শুরু হয়েছে এবং ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাল ও নদীগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মত প্রকাশ করেন। এতে মোংলা বন্দরের নৌ-চলাচলে গতিশীলতা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র সুরক্ষা, এ এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা, মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-রুটের নাব্যতা বৃদ্ধি, দ্বিমুখী ও দিনরাত সার্বক্ষণিক নৌযান চলাচল বৃদ্ধি পাবে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘসময় খাল ও নদীগুলো সংস্কার না করা, অধিকহারে পলি জমে ভরাট হওয়া, খাল ও নদীতে অপরিকল্পিতভাবে শ শ ছোট ব্রিজ, কালভার্ট, কাঁচা-পাকা রাস্তা নির্মাণ, মাটি রাখার জায়গার অভাব, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও নদীতে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যক্তি মালিকানা জমি রেকর্ড করা ভূমিহীনদের জন্য খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করে খননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ নানান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে খনন কার্যক্রম মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, ৮৩ টি খাল ও নদীর মোট ৩ শ ১০ কিলোমিটার খনন করে ১৪৭.৫ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নদীর ৫৭.৫৮৩ কিলোমিটার ও ৭৮ টি খালের ২৫৫.৪১৭ কিলোমিটার খনন করা হবে। গত ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী খনন কার্যক্রম শুরু করে। তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে ৮৩ টি নদী ও খালের মধ্য থেকে ৪৬ টি তাদের অনুকূলে রেখে বাকি ৩৭টি অন্যান্য ঠিকাদারের মাধ্যমে খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ২৯ টি খালের প্রায় ৮০ কিলোমিটার খনন করে ৩০ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করে খালগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪ টি নদী ও ২৫ টি খাল খনন চলমান রয়েছে। চলমান ওই সব খাল থেকে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। গত ২০ মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক তৃতীয়াংশের বেশি মাটি খনন করেছে। বাকি প্রায় ১ কোটি ঘনমিটার মাটি মাত্র ১৭ মাসে উত্তোলন করতে হবে। এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে পরিবেশবিদ অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খোদার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, মোংলা বন্দর সচল, সুন্দরবন রক্ষা, এই এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথের নাব্যতা নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা করতে হলে চ্যানেল সন্নিহিত নদী ও খাল খনন করে দ্রুত খুলে দিতে হবে। সঠিক সময়ের মধ্যে ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিকভাবে নদী খনন করতে হবে, তা না হলে খালগুলো আবার দ্রুত ভরাট হয়ে যাবে। বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, খাল খননের শুরুতেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। আমরা দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেনের ০১৭১১-২৬১১১৪ নম্বর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমরা যথা সময়ের মধ্যে খাল ও নদীগুলো উন্মুক্ত করে এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কাজে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এ জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে খনন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেলের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

ভাগ