রামপালে একটি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

0

 

 

রামপাল (বাগরহাট) সংবাদদাতা ॥ রামপালে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত থাকা সত্ত্বেও একটি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভাগী ওই পরিবারটি গত এক বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করেও রেহাই পাচ্ছে না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আবারো হামলা করা হবে এমন হুমকি দেয়া হয়েছে।
উপজেলার বাঁশতলী এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেল আব্দুল গনি মৃধা (৫৭) জানান পেড়িখালি ইউনিয়নের কুমারখালি মৌজায় তার মা লাকি বেগম ১০০১ নং দাগে ৫০ শতক খাস জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দবস্ত নেন। তিনি আনুমানিক ১৮ বছর ধরে ওই জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার মৃত ইসরাফিল শেখের ছেলে মো. রাজিব শেখ বিগত ২০২১ সালের ৮ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ৫/৬ জন লোক নিয়ে আ.গনির ওই বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে মালামালা টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যান। এ ঘটনার সময় আব্দুল গনি বাড়িতে না থাকায় প্রতিবাদ করেত এগিয়ে আসেন ওই এলাকার জাহারুল শেখ। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। এরপর রাজিব আব্দুল গনির মা ও স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেন। গত এক বছর ধরে আবদুল গনি তার পরিবার নিয়ে আজ এখানে কাল ওখানে এভাবে মানবেতর জীবনযাপন করেও রেহাই পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মারধর করা হবে এমন হুমকি দিয়েছেন রাজিব।
এদিকে রাজিব আব্দুল গনির বাড়ি ঘর ভেঙ্গে সেখানে একটি পোল্ট্রি ফার্ম করেছেন। এ বিষয়ে রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আব্দুল গনি যে জায়গায় বসবাস করতো সে জায়গা তার না। তার প্রাপ্ত ৫০ শতক জমি পাশের কুতুব উদ্দিনের ঘেরের মধ্যে রয়েছে। সেই জমি কুতুব উদ্দিনের ঘের ম্যানেজার সাইদুরের কাজে লাগায়ে হারি নেয়। এখানে আব্দুল গনি সরকারি জায়গা দখল করে বসবাস করতো। সে সরকারি জমি দখল করে এক সময় পজেশন বিক্রি করতো। আমি ওই জায়গায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে এখন একটি মুরগির খামার করেছি। একটি ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ওয়ারেন্ট থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, বাদীর সাথে একটা মীমাংসা হয়েছে। ভুক্তভাগী আব্দুল গনির অভিযোগ আমি স্থানীয় এক ব্যক্তির রাইস মিলে কাজ করতাম। একটি কথিত চুরির ঘটনায় মিল মালিক আমাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আমি ওই টাকা দিতে না পারায় তিনি আমার বসতবাড়ি রাজিবের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি পরবর্তীতে ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েও আমার জায়গা ফেরত পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, থানার এস আই আসাদুজ্জামান ইতোমধ্যে তদন্ত করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

 

Lab Scan