রাজগঞ্জে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সিলিন্ডার মিলছে বাড়তি ১০০ টাকায়

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জসহ ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৯৯ টাকা থেকে ১৪০টাকা বাড়িয়ে ১১৪০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১২৩০টাকা থেকে ১২৫০টাকা। সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি না হওয়ায় বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের সাথে প্রায়শ বাকবিত-া হচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, অধিক মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানিগুলো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ না করায় সংকট দেখা দিয়েছে। তবে যানবাহনে অতিরিক্ত খরচ হওয়ার কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকারি দাম ছাড়া সিলিন্ডার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।
খুচরা গ্যাস বিক্রেতা ও পরিবেশকদের ভাষ্যমতে, বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার গত এক মাস যাবত ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে অন্যান্য গ্যাস সিলিন্ডারও দাম বৃদ্ধির পর থেকে ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। আগে কোম্পানির গাড়ি এসে দোকানে দোকানে গ্যাস দিয়ে যেত। কিন্তুু এখন পরিবেশকের কাছে গাড়ি পাঠিয়েও মিলছে না কোনও গ্যাস। আর এ কারণেই বাড়তি দামে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা গেছে বৃহত্তর এ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে।
রাজগঞ্জ এলাকার ইউসুফ আলী, মোশারফ হোসেন ও চা বিক্রেতা পরিতোষ কুমারের অভিযোগ, গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন এ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম একটি সংকটের সৃষ্টি করেছেন। আর এই সংকটকে পূঁজি করে গ্যাসের দাম নিজেদের মত করে বাড়াচ্ছেন বিক্রেতারা। গত মাসে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের বিইআরসির নির্ধারিত দাম ছিল ৯৯৯টাকা। এরপর ১৪০টাকা বাড়িয়ে সিলিন্ডার প্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ১১৪০ টাকা। এদিকে সরকারের দাম বাড়ানোর আগেই এ অঞ্চলের বিক্রেতারা নিজেরাই সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২শ টাকা বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।
রাজগঞ্জ বাজারের বসুন্ধরা গ্রুপের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা সুমন সাধু ও আলমগীর হোসেন বলেন, তারা প্রতি মাসে ১ থেকে দেড় হাজার গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করেন। এখন এ কোম্পানির পরিবেশক তাদের বলেছে মাসে ২শ সিলিন্ডারের বেশি দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে ক্রেতারা আসলে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বারবার সিলিন্ডারের দাম ওঠানামা করায় গ্রাহকদের সাথে প্রায়শ ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

 

Lab Scan