রাজগঞ্জে ইউরিয়ার সংকট

0

রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্জলের রাজগঞ্জসহ ছয়টি ইউনিয়নে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারেরর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ সকল ইউনিয়নের ডিলারদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষকরা তাদের ক্ষেতে সার দিতে না পেরে মারাত্মক হতাশ হয়ে পড়েছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই তীব্র তাপদহ। চাষিরা অনেকটা বাধ্য হয়ে পানির চাহিদা পূরণ করছে ডিজেল চালিত স্যালো পাম্পের সাহায্যেই সেচ দিয়ে। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তীব্র ইউরিয়া সারের সংকট। সব মিলিয়ে এলাকার চাষিরা রয়েছেন চরম সংকটে।
উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার চলছে। কৃষকেরা সারের জন্য ডিলারসহ হাট-বাজারের বিভিন্ন দোকানে ছোটাছুটি করেও কিনতে পারছেন না ইউরিয়া সার। কৃষকেরা বলছেন অতিরিক্ত দাম দিয়ে হলেও তারা ইউরিয়া সার কিনতে রাজি। কিন্তুু তাও অধিকাংশ দোকানে মিলছে না সার। বাধ্য হয়ে ইউরিয়া সার ছাড়া খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের। সরকারি মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ফসফেট ২২টাকা, পটাশ প্রতি কেজি ১৫ টাকা, ড্যাপ প্রতি কেজি ১৬ টাকা ও ৫০ কেজির বস্তার মূল্য ১১শ টাকা। প্রতি কেজি ইউরিয়া ২২ টাকা বিক্রির কথা থাকলেও এসকল ইউনিয়নের সারের ডিলারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের খুচরো বিক্রেতারা চড়া দামে সার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হঠাৎ করে ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন এ এলাকার চাষিরা।
ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম রসুল চন্টা জানান, সারের ডিলারসহ খুচরো বিক্রেতাদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছেনা। যদিও সার মিলছে তাও আবার আকাশ ছোঁয়া দাম। অনেকটা বাধ্য হয়ে চড়া মূল্য দিয়ে এক বস্তা সার মিলাতে পেরেছি। এখন ও তার চার বস্তা ইউরিয়া সারের প্রয়োজন বলে জানান ঝাঁপা ইউপির সাবেক এ জনপ্রতিনিধি।
উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের চাষি রূপচাঁন আলী ও আমিনুর রহমান, খেদাপাড়া ইউনিয়নের চাষি আব্দুর রহমান, তুষার আহম্মেদ ও সুনিল দাস হরিহরনগর ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন, আবুল কাসেম, শৈলেন বাবু ও ডাক্তার ইলিয়াস কবির মশ্মিমনগর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ, মিলন হোসেন খাঁন ও ফারুক হোসেন, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদ, উজ্জল কুমার, মাস্টার জব্বার আলী, শহিদুল ইসলাম, অখিল কুমার, রতন কুমার ও তাপস কুমারসহ একাধিক চাষি জানান, চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের শুরু থেকে তাদের এলাকায় তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দাম দিয়েও হাট-বাজারে কোন সার পাওয়া যাচ্ছেনা।
রাজগঞ্জ বাজারের সারের সাব ডিলার আব্দুল মজিদ জানান, আপাতত তার দোকানে কোন ইউরিয়া সার নেই। সম্প্রতি তাদের দুই সাব ডিলারের নামে দুই কিস্তিতে আটশ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে। ওই সার দুই একদিনে মধ্যে দোকানে পৌঁছাবে। যে কারণে কৃষকেরা ইউরিয়া সার নিতে এসে সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। তবে ইউরিয়া সারের একটু সংকট আছে বলে জানান ব্যবসায়ী রাশেদুজ্জামান রাশেদ। জানান, তাদের দুই সাব ডিলার ইতিমধ্যে চারশ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছেন। বরাদ্দকৃত এ সার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। আর অল্প কিছু সার আছে যা মঙ্গলবার বিবতরণ করা হবে। তবে বাজারে কিছু কিছু সারের সংকট আছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
চালুয়াহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ও ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু জানান, এলাকার কিছু কিছু কৃষক সারের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের নির্ধারিত দামের বাইরে যদি কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
উপজেলা সার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, ডিলারসহ খুচরো বিক্রেতাদের বার-বার বলা হচ্ছে যে সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ যদি বেশি দামে সার বিক্রি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আপাতত রোপা আমন মৌসুমে সারের তেমন একটা সংকট নেই। প্রতিটা ইউইনয়নে চলতি মাসে ১৬শ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে। এই সপ্তাহে বরাদ্দকৃত সার ডিলাররা পাবেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

 

 

Lab Scan