যে কারণে বাদ পড়লেন পঙ্কজ দেবনাথ

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার খবর রটেছিল আগেই। নানা তালিকায় নাম ছিলো তার। তারপরও দলের সম্মেলনে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন তিনি। কয়েকবার চেষ্টা করেন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও ব্যর্থ হন। তখন থেকেই আঁচ করতে পারছিলেন নেতিবাচক কিছু ঘটতে চলেছে। তারপরও থেমে থাকেননি সাংগঠনিক কাজে। বরং কাউন্সিল ঘিরে তৎপরতা বাড়িয়ে দেন। বিষয়টি পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে। সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তিনি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে দিয়ে বার্তা পৌঁছে দেন সাংগঠনিক কাজে বিরত থাকতে। এরপর থেকেই নীরব হয়ে যান। ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রাখেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আপাতত আড়ালেই অবস্থান করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। দুই কারনে তাকে সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এগুলো হচ্ছে-দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও নির্যাতন, আরেকটি-অবৈধ উপায়ে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া। আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করলে তারা ওই দুই কারনের কথা জানান। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কোনও অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে তাকে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা নেত্রীর নির্দেশ। সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলনের কাজ করবে। সংগঠনটির একাধিক নেতা বলেন, গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানেও পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন বর্তমানে নজরদারিতে রয়েছে বলে দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতা। তারা জানান, দলীয় সভাপতি তাকে সরিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। কারণ তার কারনে স্বচ্ছ ইমেজের অধিকারী অনেক নেতা সাংগঠনিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন সম্মেলন ব্যপক উৎসাহ,উদ্দীপনা আর স্বতঃস্ফুর্তভাবে হবে বলে তাদের বিশ্বাস। পাশাপাশি সৎ ও দলের প্রতি পুর্ন আনুগত্য রয়েছে এমন নেতারা আগামীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব পাবেন বলে মনে করছেন। এদিকে সম্মেলনের জন্য গতকাল সহ-সভাপতি নির্মল গুহকে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চুকে করা হয়েছে সদস্য সচিব। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সম্মেলন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বে থাকবেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবে পঙ্কজ দেবনাথকে সরিয়ে দেয়া হলো বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে সম্মেলনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়ার একদিন পরই প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হলো। আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন।
১১ ও ১২ নভেম্বর যথাক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পঙ্কজ দেবনাথ মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা (বরিশালু-৪) আসনের এমপি। গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তার নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং ক্যাডার দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করেছিল। তার বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা এলাকায় স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনসুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, পঙ্কজ নাথ বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়। পরে পঙ্কজ দেবনাথের অসাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ও লুটপাটের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে ঢাকায় পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন পঙ্কজ দেবনাথ। ‘বিহঙ্গ’ নামে পরিচালিত তার পরিবহন একটি রুট নিয়ে শুরু করে ব্যবসা। গত বছর পর্যন্ত পাঁচটি রুটে ২৪০টি বাস চলছে তার কোম্পানির। নব্বইয়ের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন এ পর্যন্ত দুইবার হয়েছে। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে সভাপতি হয়েছিলেন আফম বাহাউদ্দিন নাছিম। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন পঙ্কজ দেবনাথ। এরপর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সম্মেলনেও সাধারণ সম্পাদক পদেই বহাল থাকেন তিনি। যদিও সেবার সভাপতি হন মোল্লা আবু কাওছার। এরইমধ্যে আবু কাওছারকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ভাগ