যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ধারণ ক্ষমতার দুইগুণ রোগী : মেডিকেল প্রতিনিধিরা বাড়াচ্ছে জনদুর্ভোগ

0

বিএম আসাদ ॥ ধারণ ক্ষমতার দুইগুণ রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। প্রতিদিন প্রায় ৭শ নারী-পুরুষ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও অন্ততঃ ২ হাজার। অতিরিক্ত রোগী হওয়ার কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উৎপাত জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
করোনারি কেয়ার ইউনিট ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মিলে প্রতিষ্ঠানটির মোট শয্যা সংখ্যা ২শ ৭৮টি। সুবিধাজনক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যশোর অঞ্চলের লোকজন চিকিৎসা নিতে আসেন এ হাসপাতালে। প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকেন ৬শ ৫০ থেকে ৬শ ৭০ জন রোগী। শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে মেঝেতে এবং ওয়ার্ডের বাইরের করিডোরে রোগী থাকে। বিদ্যুৎ সুবিধা নেই। নিজেদের ব্যবস্থা করে নিতে হয় চিকিৎসা নেয়ার জন্যে। অথচ হাসপাতালের কলেরারও শয্যা বৃদ্ধি করার কোন উদ্যোগ নেই। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে চিকিৎসা নিতে পারতেন। এদিকে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ৮শ থেকে দুই হাজার রোগী। রোগীদের ভীড়ে চিকিৎসকদের চেম্বারে প্রবেশ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। গরমে রোগীর ঠেলাঠেলিতে শরীর ঘেমে যায়। সর্বত্র হৈ হল্লা বিরাজ করে। যা চিকিৎসার পরিবেশের জন্যে অন্তরায়। এ অবস্থার আরো অবনতি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিনের অবাধ বিচরণে। যশোরে মেডিকেল প্রতিনিধি রয়েছেন ৪৪শ ৫০ জনের বেশি। তারা হাসপাতাল এলাকা যেন অফিস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রতিনিধিরা হাসপাতাল চত্বরে যত্রতত্র মোটরসাইকেল রেখে পরিবেশ নষ্ট করছে। বহির্বিভাগে থেকে চিকিৎসা নিয়ে বের হলেই চারিদিক থেকে প্রতিনিধিরা রোগীকে ঘিরে ধরেন এবং চিকিৎসকের দেয়া ব্যবস্থাপত্র রোগীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলতে থাকেন। তারা কোন চিকিৎসক কোন কোম্পানির ওষুধ লিখছেন তা যাচাই করেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষকগণ প্রতিদিন টিম করে একবার চিকিৎসা দেন। অফিস সময় পার হলেই চলে যান প্রাইভেট চেম্বারে। অন্য সময় অন কলে রেজিস্টার চিকিৎসা দিতে আসেন। মূলত: ইন্টার্ণ চিকিৎসক ও সেবিকারা মিলে হাসপাতাল চালান। এতে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পান না। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক এককভাবে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আগে একাধিকবার পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেছেন। তখন হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তা নেই। এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন অর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতাল হচ্ছে সব ধরনের লোকের চলাচলো করার জায়গা। চিকিৎসা নিতে সবাই এখানে আসেন। এ অবস্থায় সব একা কন্ট্রোল করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিান পরিচালিত হলে পরিবেশ উন্নত হবে।

Lab Scan