যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কী করোনা বিস্তারের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে?

বিএম আসাদ ॥ সাধারণ মানুষের জন্যে আর নিরাপদ থাকছে না যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল। সম্ভাব্য করোনা রোগী রাখা ও তাদের চিকিৎসায় মূল ভবনের আগে পিছে ও ভেতরে ওয়ার্ড ধার্য করায় এ আশঙ্কা প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলেই এটাকে করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্যে ঝুঁকি হিসেবে দেখলেও কর্তৃপক্ষ আমল দিচ্ছে না। ফলে, সাধারণ মানুষ এ হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ছে।
সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তাদের জটিল, কঠিন রোগের একমাত্র ভরসা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসা নেয়ার দুরূহ হয়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার কারণে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সকলেই এখন শংকিত। এর ভেতর সুস্থ থাকার জন্যে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। কিন্তু তারা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। এর কারণ হচ্ছে, সাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করে কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র করোনা ওয়ার্ড চালু করেছে। যাতে করোনাভাইরাস আরও বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ হাসপাতালের প্রবেশমুখে একতলা ভবন। যেখানে কয়েকদিন আগে অর্থোসার্জারি ওয়ার্ড ছিল। গত ২৪ জুন থেকে ওই ওয়ার্ডটি পুরুষ করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। আবার পেছনে উত্তর পাশে একতলা বিশিষ্ট সংক্রামক ওয়ার্ডটি করা হয়েছে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড। যে ওয়ার্ডটি এখন করোনার মহিলা আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ দু‘ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে তৃতীয়তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের মূল ভবন। এ ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে করোনা ব্যতীত সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নেন। কিন্তু তাদের নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নেয়ার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে। কারণ, মূল ভবনের ২য় তলায় মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডটি স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে ৬টি ভেন্টিলেটর স্থাপনের কাজ চলছে। ঢাকা ইএনটি হাসপাতাল থেকে মেরামত করা পুরনো ওই ৬টি ভেন্টিলেটর মেশিন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দেয়া হয়েছে। এ ভেন্টিলেটর মেশিন দিয়ে ওয়ার্ডে আইসিইউ চালু করা হবে। যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে। ফলে, হাসপাতালের সামনে পেছনে এমনকি মধ্যবর্তী স্থানেও নেয়া হবে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের। এর ফলে সকল ওয়ার্ডে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে এ ধরনের ওয়ার্ড করায় হাসপাতালে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না। তাদের অভিমত হচ্ছে- হাসপাতালের এক পাশে সেভসাইড করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকা উচিত ছিল। তা না হয়ে সামনে, পেছনে ও মাঝখানে করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তারা মনে করছে। কোভিড-১৯ এর নানামুখি সুবিধা পাওয়ার জন্য অথবা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে কৌশলে করোনা হাসপাতাল করার জন্যে এভাবে অগোছালোভাবে রোগী রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
যশোরে বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতাল, জিডিএল, ইবনেসিনা হাসপাতাল রয়েছে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্যে। এ সকল হাসপাতাল পরিপূর্ণ না হতেই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে করা হচ্ছে করোনা রোগীদের হাসপাতাল। এ পরিস্থিতিতে সাধারণের অবস্থা কি হবে তা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না কর্তৃপক্ষ। যশোর মেডিকেল কলেজও বিশাল ভবন পড়ে রয়েছে। ৬ তলা বিশিষ্ট এ ভবনের প্রায় সবটাই বছরের পর বছর ফাঁকা থাকে। কলেজের একটি তলাই কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত স্থান। আইসিইউ স্থাপনের জন্যেও উপযুক্ত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে আনছেন না। এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালের পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ডের সামনে রয়েছে সর্বসাধারণের খাবার পানি সংগ্রহের টিউবওয়েল। সেখান থেকে করোনা সন্দেহজনক রোগীসহ সকলেই পানি নিচ্ছেন। এতে আরও ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, মহিলা আইসোলেশন ওয়ার্ডের প্রাচীরের ভেতর থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে নমুনা। সেখান থেকে নমুনা দেয়ার পর লোকজন জরুরি বিভাগের সামনে ফু-কর্নারের পাশে এসে কফ ফেলছেন এবং নিচতলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ড লাগোয়া টিকিট কাউন্টার হতে রোগী সংগ্রহ করছেন বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকিট। ফলে, হাসপাতালের কোথাও কোন নিরাপদ জায়গা নেই। যেখান থেকে মানুষ স্বস্তিতে চিকিৎসা নেবেন। পুরো হাসপাতাল এলাকা এখন করোনাভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু করার নেই। জায়গা সংকট। এ জায়গার ভেতর সব কাজ করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস এসে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হয়ে গেছে। এখন এ হাসপাতালে কোভিড-১৯ হসপিটাল করা উচিত।

ভাগ