যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বাড়ানো হল রোগীর রক্ত গ্রহণ ও পরীক্ষার ব্যয়

0

বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে প্রতিটি পরীক্ষা মূল্য ১শ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। সেই সাথে রক্তের ব্যাগের মূল্য রোগীকে বহন করার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেনারেল বেডের রোগীদের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে যে রক্ত প্রদান করা হয়ে থাকে, তা গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১শ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ২০০৮ সালের মূল্য হতে নতুন করে এ মূল্য বাড়ানো হলো। ২০০৮ সাল থেকে এ হাসপাতালের জেনারেল বেডে চিকিৎসাধীন রোগীর প্রতিব্যাগ রক্তের স্ক্রিনিংয়ের মূল্য ছিল ২শ ৫০ টাকা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নেয়া হচ্ছে ৩শ ৫০ টাকা করে। আগে পেয়িং বেড রক্তের ক্রসমেচিং ও স্ক্রিনিং মূল্য ছিল ৩শ ৫০ টাকা। ১শ টাকা বৃদ্ধি করে বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪শ ৫০ টাকা। কেবিনে রোগীর জন্য রক্ত গ্রুপিং ক্রসমেচিং স্ক্রিনিং করার জন্য পূর্বে মূল্য ছিল ৫০০ টাকা। নতুন করে বাড়ানোর পর বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬শ টাকা। সরকারি এ হাসপাতালের বাইরে প্রাইভেট হাসপাতালে রক্তের ক্রসমেচিং স্ক্রিনিং বাবদ পূর্বের মূল্য ছিল ৫শ টাকা। ১শ টাকা বৃদ্ধি করায় এখন মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬শ টাকা। ডে-কেয়ার রক্ত স্ক্রিনিং বাবদ আগে মূল্য ছিল ৩শ ৫০ টাকা। এখন হয়েছে ৪শ ৫০ টাকা। শুধু রক্তের মূল্য বৃদ্ধি করেই শেষ হয়নি। আগে ব্লাড ব্যাংক থেকে সরকারিভাবে রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করা হতো। এবার ওই ব্লাড ব্যাগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রক্তের ব্যাগের প্রকৃত ক্রয় মূল্য রোগীর নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানিয়েছেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতবছরের ২৪ নভেম্বর তারিখের স্মারক মোতাবেক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিধি ২০ অনুসারে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রক্ত, রক্তের উৎপাদন বা রক্তজাত সামগ্রী সরবরাহ ও ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে করে গরিব ও দুঃস্থ রোগীরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখিন হবেন। কারণ, ১শ ৪০ টাকা দরে বাজার থেকে ব্লাড ব্যাগ ক্রয় করে ৬শ টাকা দিয়ে গ্রুপিং ক্রস মেচিং ও স্ক্রিনিং করতে গিয়ে একজন রোগীর খরচ হবে ৭শ ৪০ টাকা। আর এক ব্যাগ রক্ত কিনতে লাগবে ২শ ৫০ থেকে ৩শ টাকা। সব মিলে এক ব্যাগ রক্ত যোগাড় করতে একজন রোগীর প্রয়োজন হবে ১ হাজার টাকারও বেশি। কোন রোগীর যদি টাকা না থাকে, অভাবে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সরকারি হাসপাতালে বেশিরভাগ গরিব ও দুঃস্থ রোগীরাই চিকিৎসা নেন।

Lab Scan