যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ প্লট মালিকের

মাসুদ রানা বাবু ॥ জাতীয় গৃহায়ণ (হাউজিং) কর্তৃপক্ষ যশোর উপ-বিভাগের কর্মকর্তাদের হয়রানির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হারুনুর রশিদ নামে এক প্লট ক্রেতা। নতুন উপশহরের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ জানান, ৭ নম্বর সেক্টরে ২০০২ সালে তিনি জাবেদ আলী খানের কাছ থেকে সাড়ে ৭ কাঠার একটি প্লট কেনেন। ৬০ হাজার টাকায় এজন্যে ত্রি-পক্ষীয় কোবলা দলিল করেন। এরপর থেকে তিনি সরকারি খাজনা পরিশোধের মধ্য দয়ে প্লটটি ভোগ দখল করে আসছেন। তার কেনা প্লটে জমি সামান্য বেশি ছিল। নিয়মানুযায়ী বেশি জমি বরাদ্দ পাওয়ার দাবিদার তিনি। বিগত ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই প্লটের ওপর শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার অনুমতি পান। অনুমতি পাওয়ার পর তার প্লটের অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দ নিতে তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক কুমার সরকারের কাছে যান। তার হয়রানি সূত্রপাত এখান থেকে শুরু। হারুনুর রশীদকে দালালের মাধ্যমে জানানো হয় প্লটে থাকা অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ নিতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাতেই তিনি (দীপক) ষড়যন্ত্র শুরু করেন। দীপক কুমার সরকার তাকে সাফ জানিয়ে দেন আপনার নামে কোন প্লট বা জমি নেই। এরপর হারুনুর রশিদ ওই প্লটের ওপর স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন ২০১৭ সালে। দীপক কুমার সরকার হারুনুর রশিদের কেনা প্লটের মালিকানা পরিবর্তন করে আজিজুর রহমানের নামে অনুমোদনবিহীন নকশা ও আবাসিক প্লটের ওপর শিল্প স্থাপনা নির্মাণ কাজ প্রসঙ্গে পরপর তিনটি নোটিশ জারি করেন। সেই নোটিশে তিনি কোন জবাব না দেয়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মঈনুল হক মোতাইদ স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ পান। সেই নোটিশে তিনি সন্তোষজনক জবাব দেন। কিন্তু অদ্যাবধি তারা কিছু জানায়নি। এ অবস্থায় ড্রেন নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে ওই প্লটের ওপরের স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় হাউজিং কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি তারা লোকবল নিয়ে এই স্থাপনা ভাঙতে যান। এতে হারুনুর রশীদ বাধা দেন। শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ তার দুই ছেলে মাহমুদুল হাসান ও ইমদাদুলকে সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে আটক রেখে মামলা দেয়। এ মামলায় সপ্তাহাধিকাল কারাগারে ছিলেন তারা। ওই মামলায় হারুনুর রশিদকেও আসামি করা হয়।
এদিকে, ওই দুই ভাই কারাগারে থাকার সময় স্থাপনা ভেঙে দেয় গৃহায়ণ (হাউজিং) কর্তৃপক্ষ। পরে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হারুনর রশিদ ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্ট মামলায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ (হাউজিং) কর্তৃপক্ষ যশোর উপ-বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিয়াদুর হোসেন বলেন, আমি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। তার প্লটের সামনে দিয়ে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। এ জন্য তার অবৈধ স্থাপনা ভাঙা পড়েছে। তিনি আবাসিক এলাকায় শিল্প স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তিনি বরাবরই আমাদের সাথে অনমনীয় আচরণ করেন। তার নামে বরাদ্দকৃত প্লটটির মূল মালিক ছিলেন আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, দীপক কুমার সরকার তার কাছে কোন টাকা দাবি করেননি। এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক কুমার সরকার বলেন, হারুনুর রশীদ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাকে চিনি না। শুধু জানি আবাসিক এলাকায় ওই প্লটের মালিক শিল্প স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তাই, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি তাকে না করার জন্য নোটিশ প্রদান করি। প্লট কেনা বেচার আমার দপ্তরের কাজ না। প্রশাসনিক দপ্তরে কাজ। আমি কীভাবে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করবো।

ভাগ