যশোর সরকারি এমএম কলেজের নতুন দুটি হল দীর্ঘদিনেও ব্যবহার উপযোগী হল না

মাসুদ রানা বাবু ॥ আবাসন সংকট নিরসনে যশোর সরকারি এমএম কলেজে দু’টি হল নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনেও ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহার উপযোগী হয়নি। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে হল দুটি সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়া কোন উপকারে আসছে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ যশোর সরকারি এমএম কলেজ। বর্তমানে এখানে ১৯ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। অথচ, হল রয়েছে মাত্র চারটি। দু’টি ছাত্রদের ও দু’টি ছাত্রীদের। চারটি হলে আবাসিক সুবিধা ভোগ করছে মাত্র ২৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী। অন্যরা মেসে বা ভাড়া বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে। বিশাল আবাসন সমস্যার মধ্যে সরকার দুটি নতুন হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। একটি ছাত্রীদের জন্যে। অপরটি ছাত্রদের জন্যে। ছাত্রীদের হলটি কলেজ ক্যাম্পাসে এবং ছাত্রদের হলটি ফাতিমা হাসপাতাল সংলগ্ন পুরাতন ছাত্রাবাস এলাকায়। পাঁচতলা বিশিষ্ট দু’টি হলের শয্যা সংখ্যা ১২১টি করে। ২০১৫ সালের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে আগামী মাসের ১৬ তারিখে হল দু’টির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় ৫৪৫ দিন অর্থাৎ দেড় বছর। অথচ, ৩ বছর ৮ মাস অতিবাহিত হলেও হল দু’টি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ছাত্রী হলটির নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসের ২৪ তারিখে শেষ হয়। যথাসময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে হলটি বুঝিয়ে দেয়া হয় বলে জানান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা। এরপর আট মাস পার হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়নি। এদিকে, ছাত্র হল নির্মাণের সময়সীমা পার হয়ে ২ বছর ২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
সূত্র জানায়, প্রথমে দু’টি হলের মধ্যে ছাত্রীদের জন্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চারতলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ৫ কোটি ৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ের পরে এটি ১৩২ শয্যা বিশিষ্ট ৫ তলা ভবনের উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। এর জন্যে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স অগ-ঝওঔঠ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুন মাসের ২৪ তারিখে। কিছুদিন পর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর হলটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ হলটি বুঝে নেয়ার পর প্রায় ৯ মাস পার হয়েছে। কিন্তু এখনো ছাত্রীদের বসবাসের উপযোগী হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছেন, হল নির্মাণের কাজ শেষ হলেও ফার্নিচার কেনা হয়নি। তাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এদিকে, ছাত্র হলটিও প্রথমে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চারতলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে তা ১৩২ শয্যার পাঁচতলায় উন্নীত করা হয়। এর জন্যে ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ময়মনসিংহের ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ শুরু হয় ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের ১৬ তারিখে। বেঁধে দেয়া সময়সীমা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে বুঝে দেয়ার কথা। কিন্তু বুঝে দেয়া দূরের কথা, এখনো নির্মাণ কাজই শেষ হয়নি। ৫৪৫ দিন বা দেড় বছরের পরিবর্তে সময় লেগেছে ৩ বছর ৮ মাস। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের প্রায় দ্বিগুণ সময় লেগেছে। কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত করে এটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে বুঝে দেয়া হবে তা অনিশ্চিত। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া বলেন, দু’টি হলের মধ্যে ছাত্রীদের হলটি আমরা বুঝে পেয়েছি। এখন ফার্নিচার বাকি আছে। এর জন্যে আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফার্নিচার সমস্যার সমাধান হেয় গেলে উদ্বোধনের মাধ্যমে ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করে দেব। তিনি বলেন, আরেকটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে। পুরোপুরি সমাপ্ত হলে আমরা বুঝে নেব।

ভাগ