যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় ১১জন বন্দির বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুর ঘটনার পাঁচদিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ১১ জন বন্দির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩০ জন বন্দির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) জাকির হোসেন।
অভিযুক্ত বন্দিরা হলো-ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেঁজুরবাগ এলাকার কমল মজুমদারের ছেলে রাধা মজুমদার (১৭), খুলনার চরণমারী বাজার এলাকার আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আহাদ (১৭), ফরিদপুরের মধ্য আলীপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন (১৭), স্বেন কাইল গ্রামের সাদেক শেখের ছেলে তানজীদ শেখ (১৬), রংপুরের কাউনিয়া পূর্ব চানঘাট এলাকার ইদ্রিস আলী ওরফে মাজেদুলের ছেলে সাগর মিয়া (১৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার খাদিমপুর গ্রামের ইকতার আলী বিশ্বাসের ছেলে সাকিব হোসেন (১৬), রাজশাহীর বোয়ালিয়ার বালিয়া পুকুর বড় বটতলা এলাকার বাবুলের ছেলে সাব্বির হোসেন (১৮), খুলনার সোনাডাঙ্গার জামাল হাওলাদারের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে আসিফ ওরফে হাসিব (১৯), গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর পুইশুর এলাকার বাদশা শিকদারের ছেলে শাহ আলম শিকদার (১৪), মেহেরপুরের গাংনীর নওদাপাড়া গ্রামের বায়েছ উদ্দীনের ছেলে সজিব আহম্মেদ (১৬) ও কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছাত্রা গ্রামের মোবার ছেলে উজ্জল (১৩)। এদের বিরুদ্ধে ১৪৩/৪২৭/৪৩৬ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলায় তত্ত্ববধায়ক জাকির হোসেন উল্লেখ করেছেন, ‘প্রতিদিনের মতো গত ১০ জুলাই বিকেলে কেন্দ্রের শিশুদের গণনা শেষে নাস্তা প্রদান করা হয়। রাতের খাবার হাউজে দিয়ে এবং পরবর্তী দিনের ইনডেন্ট ঠিকাদারকে প্রদান করে হাউজ প্যারেন্ট ও স্টোরকিপার অফিস ত্যাগ করেন। কিন্তু রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে হাউজের দ্বিতীয় তলার শিশুরা সিসি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, টেলিভিশন, আসবাবপত্র, দরজা, জানালা, ক্লপসিবল গেট ইত্যাদি ভাঙচুর করতে থাকে। চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ও কোতয়ালি থানায় বিষয়টি অবহিত করা হলে ওসি ফোর্সসহ কেন্দ্রে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় শিশুদের ভাঙচুর করা থেকে নিবৃত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে তারা পুলিশকে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথা বলে। কিন্তু তাদের যৌক্তিক দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস দেয়া হলেও তারা সেই কথায় কোনো কর্ণপাত না করে ভাঙচুর অব্যাহত রাখে। তারা ১শ’ হাউজ ও ৫০ হাউজে একইভাবে আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, টেলিভিশন, তৈজসপত্র, ক্লপসিবল গেট, জানালা ও দরাজা ভাঙচুর করে। ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিশুদের সাথে কথা বলেন এবং নিবৃত করার চেষ্টা করেন। তারপরও তারা ভাঙচুর অব্যাহত রাখে। এরপর জেলা প্রশাসক, সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এনডিসিসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে রাত ৩ টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।’ এছাড়া ভাঙচুর ঘটনায় কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুর ঘটনায় বন্দিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, খাবার কম দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত ১০ জুলাই রাতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুর চালায় সেখানকার বন্দিরা।

Lab Scan